ব্র্যান্ড মার্কেটিং কি, কিভাবে ব্র্যান্ড মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা যায় এবং কেনো গুরুত্বপূর্ণ? 

ব্র্যান্ড মার্কেটিং কি, কিভাবে ব্র্যান্ড মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা যায় এবং কেনো গুরুত্বপূর্ণ? 

ব্র্যান্ডঃ

ব্র‍্যান্ড মুলত একটি বিশাল কনসেপ্ট। যাকে এত ছোট করে ডিফাইন করা সত্যিই কষ্টসধ্য। একটি কোম্পানি তাদের প্রচার প্রচারণার জন্য যে ইউনিক চিহ্ন, নকশা, স্বাক্ষর, নাম ইত্যাদি ব্যবহার করে তাদের পণ্য কে অন্যদের পণ্য থেকে আলাদা করে তাকে ব্র‍্যান্ড বলা হয়। ব্র‍্যান্ড একটি বিস্তার ধারণা যার ভেতর অনেক কিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে।  তাহলে ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং জিনিস টা কি? ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং হলো একটি মাধ্যম যার দ্বারা আপনি আপনার  কোম্পানির সমস্ত প্রোডাক্ট আপনার ব্র‍্যান্ড এর নামে প্রচার করতে পারবেন। মুলত আপনার কোম্পানির সার্ভিস অথবা আপনার প্রোডাক্ট এর প্রচার প্রচারণা চালাতে ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি আপনার নতুন কোম্পানির ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং করতে চাইলে কি কি জিনিস মাথায় রাখবেন এবং কি কি জিনিস এ্যাভোইড করে চলবেন তার সম্পূর্ণ গাইডলাইন এখানে দেওয়া হবে। এই আর্টিকেল এ আমরা ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং জিনিস টা কি এবং একটি কোম্পানির জন্য ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং কতটা যুক্তি যুক্ত তা আলোচনা করা হবে। 

ব্র্যান্ড মার্কেটিং সম্পর্কে আপনার যা যা জানা দরকার তা হলোঃ-

  • ব্র্যান্ড মার্কেটিং কি এবং কেন আগে জানা দরকার। 
  • কখন একটা ব্র্যান্ডমার্কেটিং সাকসেস হয়।
  • ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি কি
  • কিভাবে কয়েকটি স্টেপ ফলো করার মাধ্যমে আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ড মার্কেটিং ডেভেলপ করতে পারবেন 
  • যখন আপনি ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং করবেন তখন কি কি বিষয় আপনাকে এ্যাভোয়েড করে চলতে হবে ইত্যাদি 

নিচে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

ব্র্যান্ড মার্কেটিং কি? 

ব্র্যান্ড মার্কেটিং বলতে যা বুঝায় তা হলো, কোন নির্দিষ্ট কোম্পানির পন্য গুলোকে মানুষের সামনে তুলে ধরার যে প্রক্রিয়া। তাদের প্রোডাক্ট ইউজ করলে আপনার কি কি লাভ হবে, কি কি উপকারিতা পাবেন, কেনো তাদের প্রোডাক্ট টাই সেরা ইত্যাদি। মুলত এখানে অন্যদের প্রোডাক্ট থেকে নিজেদের কোম্পানির প্রোডাক্ট টাকেই বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া হয়। একটা উদাহরণ এর দ্বারা পুরো বিষয় টা কে ক্লিয়ার করা যাক। ধরুন আপনার একটি কোম্পানি আছে। যেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি হয়। আপনার কোম্পানির ব্র‍্যান্ড এর নাম LG.  এখন এল.জি একটি সতন্ত্র ব্র‍্যান্ড এবং আপনার এল.জি ব্র‍্যান্ড এর ভেতর বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট থাকতে পারে। যেমন: ফ্রিজ, চার্জার ফ্যান, টিভি, মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি। এরকম আরও বেশ কিছু কোম্পানি রয়েছে যেমন ওয়াল্টন। এখন এই সকল প্রোডাক্ট সেল করার জন্য যখন একটি কোম্পানি কাস্টমার দের কে ইনডিরেক্টলি ফোর্স করে তখন সেটি হয়ে যায় মার্কেটিং। একটি কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট সেল করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।  তারা কাস্টমার দের কে এটা বোঝায় যে তাদের প্রোডাক্ট দামে কম মানে ভালো। যার ফলে একজন ক্রেতা প্রোডাক্টটি ক্রয় করে। মুলত মার্কেটিং একটি কোম্পানির পরিচিতি গঠন এবং প্রতিযোগিতার এই সময়ে টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

ব্র্যান্ড মার্কেটিং কখন সাকসেস হয়?

যখন আপনি কাস্টমারদের চাহিদা অনুযায়ী প্রোডাক্ট ইম্পোর্ট করবেন অথবা তৈরি করবেন, যখন আপনি কাস্টমার দের সাথে লং টাইম কানেক্টেড থাকতে পারবেন,তাদের চাহিদা অনুযায়ী এক্সপেন্সিভ জিনিস সেল করবেন যেমন শৌখিন প্রোডাক্ট ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ইত্যাদি তখন আপনার ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং সাকসেস হবে। এক কথা যদি বলা হয় ,পন্যের স্থায়িত্ব মান বৃদ্ধির মাধ্যমে আপনার ব্র্যান্ড  কাস্টমার দের মনে আস্থার যায়গা করে নেয়। মুলত একটি ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং কে সাকসেস করতে হলে কয়েক টি বিষয় মাথায় রাখতে হবে তা হলো:

  • আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কারা
  • আপনার ব্র‍্যান্ড এর প্রাথমিক লক্ষ্য টা কি
  • সাকসেস টাকে আপনি কিভাবে সঙ্গায়িত করেন
  •  

এই সহজ তিনটি প্রশ্নের উত্তর আপনার মাথায় সেট করতে পারলে আপনিও আপনার ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং কে সাকসেস করতে পারবেন এবং বিশ্বের কাছে পরিচিতি গড়ে তুলতে পারবেন।

ব্র্যান্ড মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি টা কি? 

এখানে অ্যাপেল এর ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি টা শেয়ার করা হলো। আ্যাপেলের ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি টা খুবই সিম্পল। তারা শুধুমাত্র একটি ব্র‍্যান্ড-ই তৈরি করেনি। তারা শুধুমাত্র তাদের প্রোডাক্ট সেল-ই করেনি তারা তাদের প্রোডাক্টগুলোর মাধ্যমে মানুষের লাইফ স্টাইল কেই পরিবর্তন করে দিয়েছে। তারা তাদের মার্কেটিং এর উপর এমন ভাবে ইফোর্ট দিয়েছে যেন একজন কাস্টমার ফিল করে আ্যাপল প্রোডাক্ট তার লাইফ স্টাইল কে ইম্প্রুভ করবে। এই ধরনের মার্কেট স্ট্র‍্যাটেজি কাস্টমার এর মনে প্রোডাক্টটি সম্পর্কে আস্থা জুগিয়েছে। এরকম আরও অনেক মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি রয়েছে। 

কোম্পানির ব্র্যান্ড মার্কেটিং ডেভেলপ করার কয়েকটি ধাপঃ

  • আপনাকে বুঝতে হবে আপনার ব্র‍্যান্ড টির পারপাস কি। পারপাস অনুযায়ী আপনাকে মার্কেটিং করে যেতে হবে। প্রচার চালিয়ে যেতে হবে। 
  • আপনার টার্গেটেড কাস্টমার কারা খুঁজে বের করুন। এটা অনেকটা প্রোডাক্ট এর উপর ডিপেন্ড করে। যেমন বিউটি প্রোডাক্ট হলে টার্গেট থাকে ১৫-৪০ বছর বয়সী মহিলারা। অন্য দিকে টেক কোম্পানি হলে ছেলেরা টার্গেট কাস্টমার হবে কারণ এক্ষেত্রে ছেলেরাই বেশি আগ্রহী। 
  • কমপিটিটরস খুঁজে বের করুন। ধরুন আপনার একটি সাবানের কোম্পানি আছে। বর্তমানে লাক্স সাবান মার্কেট দখল করে আছে। তাহলে আপনার ভাবতে হবে কিভাবে কাস্টমার কে টার্গেট করে, তাদের মনে যায়গা করে, বিজ্ঞাপন দিয়ে লাক্স সাবানের  যায়গাটা আপনার কোম্পানির সাবান দখল করতে পারে।

যে যে বিষয়  ব্র্যান্ড মার্কেটিং এর সময় আপনাকে আ্যাভোয়েড করতে হবেঃ

  • কখনোই কমপিটিটরস দের এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে বরং ভাবতে হবে কি করে তাদের থেকে এগিয়ে থাকা যায়।
  • এমন কোনো লোগো তৈরি করা যাবে না যা দেখে কোনো কাস্টমার এর কনফিউশান তৈরি হয়। ক্লিন লোগো ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো যাতে করে লোগো টা দেখেই একজন কাস্টমার বুঝতে পারে লোগো দ্বারা কি বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
  • লং টাইম টিকে থাকতে হলে কাস্টমার এর মনে আস্থা তৈরি করতে হবে। 

পরিশেষে:

যে জিনিস টা একদম না বললেই না তা হলো আপনার কোম্পানির প্রোডাক্ট সেল বলেন অথবা কোম্পানির পরিচিতির কথা বলেন ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং ছাড়া সাকসেস অসম্ভব! কারণ আপনার কোম্পানির প্রচার যত বেশি হবে আপনার প্রোডাক্ট এর সেল তত ভালো হবে। বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে ও সেল বাড়ানো যায়। আপনার উচিত হবে যখনি আপনি একটি কোম্পানি দাঁড় করাবেন তখনি কোম্পানির লোগো এবং ব্র‍্যান্ডিং শুরু করে দেওয়া। যখন জনগণ আপনার সার্ভিস সম্পর্কে অবগত হবে তখন ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং এর মাধ্যমে বিজনেসে সেল বাড়ানো।  এ ক্ষেত্রে আপনি উপরে উল্লেখিত ব্র‍্যান্ডি মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি গুলো ফলো করতে পারেন। সাকসেস ধরা দিবেই! আর আপনি যদি প্রফেশনাল ভাবে আপনার ব্র্যান্ড মার্কেটিং করতে চান তাহলে  ইয়াপ্পোবিডি থেকে আপনার চাহিদা অনুযায়ী সার্ভিসটি বেছে নিতে পারেন।

 

Facebook Comment