You are currently viewing বাংলাদেশে ই-কমার্স এর গুরুত্ব ও ভবিষ্যত!

বাংলাদেশে ই-কমার্স এর গুরুত্ব ও ভবিষ্যত!

চাল-ডালও যে অনলাইনে কেনা যায় তা এই করোনাকালীন সময় শিখিয়ে দিলো দেশের মানুষকে। এখন বেশীর ভাগ মানুষ  অনলাইনে কাঁচাবাজার সারছেন, ওষুধ কিনছেন। ইলেকট্রনিকস পণ্য, পোশাক, গৃহস্থালির বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনছেন। এমনকি যাঁরা এত দিন গরুর হাটে গিয়ে শিং দেখে, দাঁত দেখে, সঙ্গে দু-একটা গুঁতো খেয়ে গরু কিনতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাঁদের একাংশ অনলাইনেই গরু দেখা শুরু করেছেন। ঘরে বসেই পছন্দ করছেন খামারে থাকা গরু। প্রতিনিয়তই মানুষ অনলাইনে কেনাকাটার উপর ঝুঁকছেন এবং অনলাইন নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। অনলাইনে কেনা ও লেন-দেনের যে অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে, এটি কিন্তু সম্ভব হয়েছে ই-কমার্সের রেভ্যুলেশন এর ফলে। যেমন- একজন ব্যবসায়ী এখন নিজস্ব দোকান বা শপিং মল থাকার পরেও ই কমার্স অর্থাৎ অনলাইনের  মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করছেন। ই-কমার্স মূলত সব ব্যবসায়ীর জন্য অবশ্য পালনীয় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাকালীন সময়ে যেখানে অনেক যুবক চাকরি হারিয়েছেন কিংবা বেকার ছিলেন, এই  ই-কমার্সের ফলেই কিন্তু তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আপনাদের মনে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে,  ই-কমার্সের গুরুত্ব তো ব্যাপক রয়েছে কিন্তু এই ই-কমার্স এর ভবিষ্যত কি? 

ই-কমার্স নিয়ে অনেকের সংশয় ও সফলতা থাকলেও বাস্তবতা বলছে, এখানে ই-কমার্সের সম্ভাবনা অনেক দূর পর্যন্ত প্রসারিত। আগামী দিনগুলো অনেক সম্ভাবনাময় ই-কমার্সের জন্য। বলা যায়, এ দেশের খুচরা ব্যবসার  বেশিরভাগ  ই-কমার্সের আওতায় চলে আসবে, এমনকি কর্পোরেট ব্যবসারও অনেক কিছু। বিষয়টা এমন নয় যে, ই-কমার্স জগতে কেউ না জেনে বুঝে প্রবেশ করে সফলতা অর্জন করছে।  কিছু সংশয় রয়েছে যেটার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তবে এগুলো কাটিয়ে উঠে যদি যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সফলতা অর্জনের এই পর্যায় কে আরও উন্নত করা যায়, তাহলে ই-কমার্স ভবিষ্যতে আরো সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবে। প্রিয় পাঠক, আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে সম্পূর্ণ আর্টিকেল টি পড়তে পারেন –

ই-কমার্সঃ

ই-কমার্স (e-commerce) সম্পর্কে যদি আপনাদের বলি, এটি হচ্ছে একটি আধুনিক ও ডিজিটাল ব্যবসা পদ্ধতি। এখানে ব্যবসার সকল কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে  পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্রেতা ঘরে বসেই যে কোন পণ্যের মান, পণ্যের দাম সর্ম্পকে জানতে পারে এবং তেমনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তা অর্ডারও দিয়ে ক্রয় করতে পারে। ই-কমার্সের ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনারা লেনদেনের সময় ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। 

ই-কমার্স ব্যবসার সর্বব্যাপিতাঃ

ই-কমার্সে (e-commerce) নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন নেই, এটি হলো সর্বব্যাপী একটি ব্যবসা। এটি সব সময় সব জায়গায় সহজলভ্য। আপনার একটি মোবাইলে বা ল্যাপটপে বা অন্য কোন ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে আপনি যেকোনো জায়গায় বসে দ্রব্য কেনা – বেচা করতে পারবেন। ই-কমার্স (e-commerce) ব্যবসা কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না।

ই-কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধাঃ

ই-কমার্সের মাধ্যমে আপনি এখন খুব সহজেই বিশ্বব্যাপী পণ্যের আদান-প্রদান করতে পারবেন।  যেমন, যে কেউ ইচ্ছা করলে সুদূর আমেরিকা থেকে তার পছন্দনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারে। খুব দ্রুত সময়ে কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই পণ্য পাওয়া যায়। কারণ ভোক্তা বা ক্রেতা নিজে পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে অর্ডার করে থাকে কোনো প্রকার তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই। তাছাড়া সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো যে কেউ নিজের পণ্য সারা বিশ্বে যে কারোর কাছে বিক্রি করতে পারেন। ই-কমার্স সাইট গুলো ২৪ ঘণ্টা বা সপ্তাহে ৭ দিন খোলা থাকে। যেকোনো স্থান থেকে ই-কমার্স সাইটগুলো যেকোনো স্থান থেকে ব্যবহার করা যায়। তাই ই-কমার্সের মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসে পণ্য ক্রয় করতে পারেন। তবে,ই-কমার্সের কিছু অসুবিধা হলো অনেকেরই মাঝে মাঝে অনলাইনে পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার, অনেক সময় ইন্টারনেট এক্সেস করার ক্ষেত্রে গ্রাহকরা সমস্যার সম্মুখীন হন। প্রায় সময় ই কমার্স সাইটগুলো থেকে পণ্য ক্রয় করার সময় নিজের অনেক ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এছাড়া দেখা যায় গ্রাহকরা যখন অনলাইনে পণ্য অর্ডার করে তখন পণ্যের ডেলিভারী নিয়ে সমস্যা হয়ে থাকে। তবে, অনলাইনে কোনো জিনিস কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কোনো পণ্যের মানের কোনো গ্যারান্টি থাকে না।

বাংলাদেশে ই-কমার্স এর এত গুরুত্ব কেনঃ

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে ই-কমার্স এর  জনপ্রিয়তা ও গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার কারণে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ই-কমার্সের দিকে ঝুঁকছে। ই-কমার্সের দিকে ঝোঁকার অন্যতম আরেক টি কারণ হলো এই প্ল্যাটফর্মে বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের কাছে সহজেই পৌঁছানো যায়। বিশেষ করে যারা আরাম প্রিয় কিংবা শৌখিন তাদের জীবন কে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে ই-কমার্স। সেই সাথে, বাংলাদেশে ই-কমার্স   বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।  যেমন, দারাজ

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যুক্ত করেছে নতুন ধারা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে তরুণ প্রজন্মের জন্য, নতুন উদ্যোক্তারা যুক্ত হয়েছে ই-কমার্সের সাথে এবং নানাভাবে সমৃদ্ধ করে চলেছে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণের যাত্রাকে। আর এইসব কারণেই বাংলাদেশে ই-কমার্স  এত গুরুত্বপূর্ণ। 

ই-কমার্সের ভবিষ্যত সম্পর্কেঃ 

ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা ভবিষ্যতে জনপ্রিয় করে তুলতে হলে প্রতি টা ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর যেন ক্রেতার আস্থা থাকে এটি নিশ্চিত করতে হবে । কারণ এই ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা উন্নত বিশ্বে যেমন জনপ্রিয় তেমনই সফল। এবং সেসব উন্নত দেশের ধারণা নিয়েই আমাদের দেশে এই ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা চালু করা হয়েছে। তাই উন্নত দেশে যেসব শর্ত এবং মানদণ্ড মেনে এই ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা জনপ্রিয় এবং সফল হয়েছে, সেগুলো আমাদের দেশেও যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে, অন্যথায় ইভ্যালির মতো অঘটন ঘটতেই থাকবে।

দেশে ই-কমার্স যাত্রা শুরু করতে না করতেই ইভ্যালি কেলেঙ্কারি দেশের ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। অথচ ই-কমার্স বা অনলাইন শপিং এখন এক নতুন বাস্তবতা। আমরা স্বীকার করি বা না করি আগামী দশকের ব্যবসা-বাণিজ্য যে যথেষ্টই অনলাইন নির্ভর হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এমনকি উন্নত বিশ্বের অনলাইন ব্যবসা সর্বোচ্চ পর্যায় পৌঁছে যাওয়ায় বিশ্বের বিশাল বিশাল অনলাইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যেমন আমাজন, আলিবাবা, ওয়ালমার্ট এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করেছে। ভারতে তো এসব কোম্পানি তে এরই মধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে বসে আছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং জনসংখ্যার কারণে তাদের দৃষ্টি যে আমাদের দেশের দিকেও আছে তা মোটামুটি নিশ্চিত করেই বলা যায়। এ রকম অবস্থায় ইভ্যালি কেলেঙ্কারি কিন্তু আমাদের দেশের ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা ভবিষ্যতের জন্য মোটেই ভালো খবর নয়। 

দেশে ই-কমার্সের প্রসারে কাজ করছে ওখানেই.কমঃ

বাংলাদেশে  ই-কমার্স একটি সম্ভাবনার জায়গা তৈরি করেছে। মানুষ এখন ঘরে বসে পণ্য কিনছে। দেশ ডিজিটাল হচ্ছে। সে যাত্রায় ওখানেই ডট কম অংশীদার। সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাতে ওখানেই ডটকম নিজের জায়গা করে নিয়েছে। দেশি উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওখানেই ডটকমের (okhanei.com) যাত্রা শুরু।

ওখানেই ডট কম শীর্ষ স্থানীয় জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট হিসেবে ই-কমার্সের প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বাজারে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে এ প্রতিষ্ঠান। ওখানেই ডটকম শুধু বিক্রি নয়, একইসঙ্গে দেশের ব্র্যান্ডিং হিসেবে কাজ করেছে। বাংলাদেশের জামদানির মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রি সারাবিশ্বের সামনে  তুলে ধরেছে ওখানেই ডট কম। পাশাপাশি,  ক্ষুদ্র-ব্যবসায়ীরা নিজেদের পণ্য যাতে বিক্রয় করতে পারে সেই ব্যবস্থাই করছে প্রতিনিয়ত। সরকারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে দেশের পণ্যকে বাইরের হাজারো অথিতিদের মাঝে তুলে ধরেছে ওখানেই ডটকম।

পরিশেষেঃ

আপনি যদি চান তাহলে খুব সহজেই আপনি ও আলিবাবা, আমাজন এমনকি ওখানেই ডট কম এর মতো ই-কমার্স বিজনেস চালু করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনার বিজনেস এর ব্র‍্যান্ডিং করার জন্য আবশ্যক একটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ই-কমার্স ওয়েবসাইট। এটি প্রমাণিত যে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট পারে একটি ই-কমার্স বিজনেস এর সফলতা এনে দিতে। তাই দেরি না করে আজই আপনার ই-কমার্স বিজনেস এর জন্য বানিয়ে নিন একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং যেকোনো ধরনের ডিজিটাল সেবা নিতে ইয়াপ্পোবিডি  এর সাথে যোগাযোগ করুন। 

Facebook Comment