সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কি? এবং এর গুরুত্ব 

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কি? এবং এর গুরুত্ব 

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টঃ

আগে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া কে ব্যবহার করতো শুধু বন্ধু বান্ধবের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হওয়ার ফলে এখানে দিন দিন নানা ধরনের ব্যবসা গড়ে উঠছে। তাই একদম নতুন উদ্দোক্তারা তাদের বিজনেস এর ক্ষেত্রে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া কেই মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। নতুন উদ্দোক্তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজনেস গড়ে তোলার কারন হলো এখানে তাদের প্রোডাক্ট ডিসপ্লে করার জন্য আলাদা করে পেমেন্ট করতে হয় না। কিন্তু দোকান ভাড়া নিয়ে ছোট ব্যবসা করতে গেলে সারা মাস আপনার বিক্রয় না হলেও আপনাকে মাস শেষে ভাড়া দিতেই হবে। এরকম নানা ধরনের জটিলতা থাকার জন্য মানুষ এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। আপনি যদি আপনার ব্যবসার পরিচিতি বাড়াতে চান তাহলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা দরকার। আর এ বিষয়ে যদি আপনি অজ্ঞ হোন তাহলে আপনি এই আর্টিকেল টা পড়ুন। এখানে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কি এবং এর গুরুত্ব টা-ই বা কত টুকু একটা বিজনেস দাড় করানোর ক্ষেত্রে ইত্যাদি আলোচনা করা হবে এবং এর পাশাপাশি আপনি আরও জানতে পারবেন কিভাবে, কোথা থেকে আপনি একজন ভালো সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হায়ার করতে পারবেন। 

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট হলো আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোডাক্ট বা সকল সার্ভিসের দেখাশোনা করার কাজ। এটি এমন একটি প্রসেস যার মাধ্যমে আপনার অনলাইন প্রেজেন্স বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এর উপর যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি তে নানা ধরনের পোস্ট ক্রিয়েট, সেগুলো পাবলিশ এবং এনালাইসিস করার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট বলতে আরও বোঝায় সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারদের সাথে আপনার ইংগেজিং এবং ইন্টারেকটিং। আপনার যদি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এ অনেক গুলো বিজনেস থাকে তাহলে কি আপনার একার পক্ষে সব বিজনেস দেখাশোনা করা সম্ভব? কাস্টমার দের সাথে ইংগেজিং/সম্পৃক্ততা বাড়ানো সম্ভব? অবশ্যই আপনার উত্তর হবে “না”। এক্ষেত্রে আপনি আপনার বিজনেস এর ম্যানেজমেন্ট এর দায়িত্ব দিতে পারেন একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার এর উপর। আপনি যদি আপনার অনলাইন বিজনেস কে ঠিকঠাক মত ম্যানেজ করতে চান সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার এর দ্বারা তাহলে আপনি yappobd.com থেকে হায়ার করতে পারেন। আমাদের আছে অভিজ্ঞ সোশ্যাল মিডিয়া মানেজার। এবার জেনে নেওয়া যাক সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এর ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার এর গুরুত্ব কতটা।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কি? এবং এর গুরুত্ব 

বিজনেস কৌশল প্রসারঃ 

যেকোনো ধরনের বিজনেস কে সফল করতে হলে অবশ্যই কিছু কৌশল অবলম্বন করা উচিত। তেমনি সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এর ক্ষেত্রে ও কিছু টেকনিক আপনাকে অবলম্বন করতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্য একেক জনের স্ট্র‍্যাটেজি একেক রকম হয়ে থাকে কারন একেক জনের রুচি একেক রকম। আপনার বিজনেস এর প্রসার বাড়াতে চাইলে আপনি আপনার বিজনেস ম্যানেজমেন্ট করার দায়িত্ব সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার কে দিন। এতে করে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময় বেচে যাবে। এবং আপনি এই সময় টা অন্য কাজে লাগাতে পারবেন। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজাররা যেহেতু এক্সপার্ট হয়ে থাকে এই বিষয়ে তাই তারা তাদের কিছু ট্রিকস দ্বারা আপনার বিজনেস কে গ্রো আপ করে দিবে।

কাস্টমার সংখ্যা বাড়ানোঃ 

৭৪% মানুষ তাদের কেনা কাটা করার জন্য ফেসবুক এর উপর নজর রাখে। আর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সংখ্যা টা দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা প্যানডেমিক এর জন্য। তাই সোশ্যাল মিডিয়া তে বিজনেস থাকলে সেটা নিয়ে আপনার ভাবা উচিত। বিজনেসের প্রশার ঘটিয়ে সেটা সবার মাঝে পৌঁছে দিন। আপনার বিজনেস এর কোনো গ্রুপ বা পেইজ থাকলে সেটা বুস্ট করুন। পেইজ বা গ্রুপ বুস্ট করতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট এর সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার অনলাইন বিজনেস এর এ্যাডভারটাইজ বুস্ট করার ফলে কাস্টমার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপ বা পেইজ সবার কাছে যত পৌঁছাবে তত কাস্টমার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আপনার বিজনেস এর অ্যাডভারটাইজিং টা আপনি করে নিতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার এর দ্বারা। আপনার উচিত হবে বুস্টিং, অ্যাডভারটাইজিং কিংবা অন্য যেকোনো উপায়ে কাস্টমারদের কাছে রিচ বাড়ানো। কাস্টমার বাড়লো কিন্তু আপনি প্রোডাক্ট খারাপ দিলেন, এক্ষেত্রে আপনার কাস্টমার দিন দিন কমবে তাই এদিকেও নজর দিন। কাস্টমার যত বাড়বে তত তাদের কে হ্যান্ডেলিং করাটা ও কঠিন হয়ে পড়বে।  এক্ষেত্রে আপনাকে হেল্প করার জন্য সর্বদা পাশে আছে অনেক এক্সপার্ট সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার। 

গ্রাহক সেবা নিশ্চিতঃ 

একটি অনলাইন বিজনেস এর মুল কথা হওয়া উচিত ” গ্রাহকদের স্যাটিস্ফ্যাকশন-ই আমাদের সার্থকতা “। কিন্তু এই নীতি কয় জন-ই বা ফলো করে। আপনি যত বড় অনলাইন বিজনেস-ই চালান না কেনো আপনি যদি গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে না পারেন আপনার বিজনেস টিকবে না। বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন ই-কমার্স বিজনেস হলো ইভ্যালি। কিন্তু তারা সব চাইতে বেশি সমালোচিত কারণ তাদের ডেলিভারি সিস্টেম ভালো না। কেও কেও তো আবার মজা করে বলে ” গার্লফ্রেন্ড থাকতে কাপল ওয়াচ অর্ডার দিছিলাম ইভ্যালি তে, ব্রেক-আপ হওয়ার পর সেটা আসছে”। এই ধরনের মিম থেকে এটাই প্রকাশ পায় ইভ্যালি তাদের কাস্টমারদের কে স্যাটিসফাইড করতে পারে নি। তাদের মার্কেটিং এর কিছু বাজে স্ট্র‍্যাটেজির জন্য অনেকেই তো আবার অর্ডার দিয়ে মানুষিক বিষন্নতায় ভোগে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিজনেস কে ব্যান করে দিয়েছে। তাই আপনি যে ব্যবসাই করুন না কেনো সব সময় ম্যানেজিং সিস্টেম, কাস্টমার স্যাটিসফ্যাকশন এর দিকে নজর রাখুন। ধরুন আপনার একটি অনলাইনে জামা-কাপড়ের বিজনেস আছে। গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে আপনি পারলে অনলাইন এ্যাডভারটাইজিং এর দায়িত্ব একজন কে দিবেন, প্রোডাক্ট লাইভ করাবেন একজন কে দিয়ে, এরকম ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরে আলাদা আলাদা লোক কে নিয়োগ করুন। এতে আপনার কাস্টমাররা স্যাটিসফাইড থাকবে এবং আপনার পুরাতন কাস্টমাররা আপনার কাছ থেকেই প্রোডাক্ট কিনবে এবং পাশাপাশি আপনার প্রোডাক্ট গুলোর মান ভালো হলে অন্য জনকে ও নিতে বলবে। 

কমিউনিটির সুবিধা বৃদ্ধিঃ 

আপনার অনলাইন বিজনেস কে যদি আপনি একাই হ্যান্ডেল করতে চান তাহলে আপনার কাস্টমারদের সাথে আপনার কমিউনিকেশন গ্যাপ সৃষ্টি হবে। দেখা যাচ্ছে একটা কাস্টমার আপনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে কারণ তার একটি প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানার দরকার কিন্তু তখন আপনি অন্য একজন কাস্টমার এর সাথে বিজি। এর ফলে আপনার নতুন কাস্টমার টা কমিউনিকেশন গ্যাপের ফলে আপনার প্রোডাক্ট টি কিনতে আগ্রহী হবে না। আর আপনার একার পক্ষে এতো লোকের সাথে কানেক্ট থাকা কখনোই পসিবল না। আপনার যদি সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার থাকে তাহলে খুব সহজেই আপনি এবং আপনার কাস্টমার কানেক্টেড থাকতে পারবেন। 

গ্রাহক উপস্থিতিঃ 

আপনি যদি আপনার ফেসবুক পেইজ, গ্রুপ কিংবা ওয়েবসাইট এ আপনার প্রোডাক্টগুলোর পোস্ট অনিয়মিত ভাবে দিতে থাকেন তাহলে আপনার কাস্টমাররা আপনার কোনো কোন প্রোডাক্ট এর লঞ্চ মিস করেও ফেলতে পারে। আপনি যদি গ্রাহক উপস্থিতি বাড়াতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার এ রুলস মেইনটেইন করে চলুন। প্রতিদিন কিংবা সপ্তাহের একটা ফিক্সড টাইম এ আপনার প্রোডাক্ট এর নিউ পিকগুলো আপলোড দিন। এতে করে আপনার কাস্টমাররা আপনার নিউ প্রোডাক্ট লঞ্চ হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেক ইন্ট্রেসটেড থাকবে এবং নতুন প্রোডাক্টগুলো কেও-ই দেখতে মিস করবে না। আরো একটি কার্যকরী উপায় হলো আপনি যদি আপনার বিজনেস এর কোনো প্রোডাক্ট নিয়ে লাইভ করতে চান তাহলে তাহলে সেটা মিনিমাম ২-৩ দিন আগেই আপনার ফেসবুক পেইজ অথবা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে দিন। এতে করে আপনার লাইভ এ সবাই উপস্থিত থাকবে এবং নতুন প্রোডাক্ট এ কোনো অফার থাকলে মিস করবে না। এতে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট করা ও সুবিধা হবে। 

পরিশেষেঃ 

উপরের আলোচনা থেকে বোঝাই যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যত ভালো হবে, কমিউনিকেশন যত বাড়বে কাস্টমার দের সাথে আপনার বিজনেস তত টপ এ উঠবে। আপনার বিজনেসের কথা তত সবার মুখে মুখে শোনা যাবে। তাই ম্যানেজিং সিস্টেম সর্বোত্তম করা সবার আগে জরুরি। একটা অনলাইন বিজনেস কে ম্যানেজ করা অনেক টাফ বলা চলে। আপনার একার পক্ষে সব সামলানো কষ্টকর বেপার। তাই দায়িত্ব টা দিয়ে ফেলুন কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার এর কাছে। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার আপনার বিজনেস টা কে সবার কাছে রিপ্রেজেন্ট করার সাথে সাথে নানা ধরনের সার্ভিস প্রোভাইড করবে। বিস্তারিত জানতে  yappobd.com এর সাথে যোগাযোগ করুন। 

Facebook Comment