ওয়ার্ডপ্রেস দিয়েই কেন ওয়েবসাইট তৈরি করবেন? ওয়ার্ডপ্রেস কেন এত জনপ্রিয়?

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়েই কেন ওয়েবসাইট তৈরি করবেন? ওয়ার্ডপ্রেস কেন এত জনপ্রিয়?

আপনি কি একজন উদ্যোক্তা? আপনার কি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে? এর পরের প্রশ্নটা হচ্ছে আপনার পেজ বা ওয়েবসাইট আছে কি? যদি না থাকে তাহলে আপনি এখনো ৯০ দশকেই পড়ে আছেন, আর ব্যবসা চালাচ্ছেন মান্ধাতা আমলের নিয়মেই। ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে অনলাইন পরিচিতি ছাড়া ছোট একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও কল্পনা করা যায় না। পাড়ার মোড়ের বা ফুটপাতের পিঠার দোকানটাও ফুডপান্ডা ব্যবহার করে আজকাল। প্রযুক্তির ছোয়ায় আমরা সবাই হয়ে গেছি অলস, তাই ঘরে বসেই পেতে চাই সবকিছু। তাই সব ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তার প্রথম লক্ষ হচ্ছে ক্রেতার কাছে কত দ্রুত পৌছানো যায়, আর কত দ্রুত সার্ভিস দেওয়া যায়। আর এই কাজের জন্য একমাত্র রাস্তাই হচ্ছে অনলাইন অস্তিত্ব। এজন্য সবাই আগে ফেসবুক পেজ থেকে সেই যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ফেসবুক পেজের হাজারো সীমাবদ্ধতার কারনে চিন্তা করতে হয় একটি নিজস্ব ওয়েব সাইটের, যেখানে সব কিছু করতে পারবে নিজের মত করে। আর বিপত্তিটা বাধে এখানেই। শত শত প্লাটফর্ম আর ওয়েব সাইট বিল্ডারের মধ্যে কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ, কোনটা ম্যানেজ করা সহজ আর কোনটাই বা সহজলভ্য, এসব চিন্তা করতেই কেটে যায় মাসেরও বেশি সময় আবার অনেক সময় পরতে হয় ধোকাবাজদের ফাঁদে। তো চলুন আপনার এত সব কিছুর ছোট একটা সমাধান দেই।

ওয়ার্ডপ্রেস। নিশ্চয় নামটা শুনেছেন। বর্তমান সময়ের সব থেকে বহুল ব্যবহৃত CMS(কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম)। বর্তমান বিশ্বের ওয়েব জগতে প্রায় ৩৫% জায়গা দখল করে আছে ওয়ার্ডপ্রেস। আর CMS মার্কেটের ৬০%। ভেবে দেখুন তো, কেন এত এত মানুষ এটাই ব্যবহার করছে অন্যান্য CMS রেখে। তো চলুন তবে দেখে নেওয়া ওয়ার্ডপ্রেস দিয়েই কেন ওয়েবসাইট তৈরি করবেন? ওয়ার্ডপ্রেস কেন এত জনপ্রিয়?

ফ্রী এবং ওপেন সোর্সঃWordPress Development Service

ওয়ার্ডপ্রেসের জনপ্রিয়তার প্রথম ও প্রধান কারন হচ্ছে এটা ব্যবহার করার জন্য ১ টাকাও খরচ করতে হয় না। সেই সাথে রয়েছে ব্যবহারের সম্পূর্ন স্বাধীনতা। আপনি চাইলে নিজেই যে কোন ধরনের পরিবর্তন পরিমার্জন করতে পারবেন। ওপেন সোর্স হওয়ায় সারা বিশ্বের দক্ষ ডেভেলপাররা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার যোগ করে এটাকে আরো সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন। ফলে এর ফিচার যেমন বাড়তেছে, তেমনি ব্যবহারও ক্রমাগত বাড়তেই আছে।

ব্যবহার ক্ষেত্রঃ

ওয়ার্ডপ্রসের শুরুটা ছিল শুধুমাত্র ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করা। কিন্তু এখন সেই পরিসীমা আর ব্লগিং এ সীমাবদ্ধ নেই। এখন যে কোন ক্যাটাগরির ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে অনেক সহজে এবং কম সময়েই করা যায়। ই-কমার্স, পোর্টফোলিও, এজেন্সি, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট, POS, CRM, ম্যাগাজিন, নিউজ পোর্টাল, স্টূডেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সোসাল মিডিয়া, জব পোর্টাল সহ সব ধরনের ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে খুব কম সময়ে করা যায়।

ডিজাইন কাস্টমাইজেশনঃ

কাস্টমারকে আকর্ষন করার প্রথম ধাপটাই হচ্ছে সাইটের লুকিং। যে কোন ওয়েব সাইটের ডিজাইন হচ্ছে অন্যতম প্রাণ। কাস্টমার আপনার সাইট ভিজিট করতে যত স্বাচ্ছন্দবোধ করবে, সেই কাস্টমার এর দ্বিতীয় বার ফিরে আসার চান্স তত বেশি। ওয়ার্ডপ্রেসে এই ডিজাইন কাস্টমাইজেশন আপনি করতে পারবেন ইচ্ছা মত, পরিবর্তন করতে পারবেন জাস্ট এক ক্লিকেই। ওয়ার্ডপ্রেস স্টোরে আছে হাজার হাজার ফ্রী থিম, সেখান থেকে ইচ্ছামত যেটা পছন্দ সেটাই ব্যবহার করতে পারবেন যেকোন সময়। আপনি যদি আরো ভাল মানের বা কাস্টম থিম ব্যবহার করতে চান, ওয়ার্ডপ্রেস আপনাকে সেই সুবিধাও দিচ্ছে। ফ্রী থিমের মত হাজার হাজার প্রিমিয়াম থিমও আছে অনেক। চাইলেই কিনে ব্যবহার করতে পারবেন।

প্লাগিনঃ

আপনার ব্লগিং সাইটে ই-কমার্স ফাংশনালিটি যোগ করতে চাচ্ছেন? ই-কমার্সে শিপিং ট্রাকিং অপশন দরকার? এরকম আরো অনেক অপশনই আপনার দরকার পড়বে। তার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসের আছে প্লাগিন ব্যবস্থা। এই প্লাগিন দিয়ে আপনি যে কোন ধরনের ফাংশনালিটি সহজেই যে কোন সময় যোগ করতে পারবেন। ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন স্টোরে ফ্রীতেই আছে হাজার হাজার প্লাগিন। যেমনঃ ই-কমার্সের জন্য woocommerce, কন্টাক্ট ফর্ম, মেইলচিম্প, সিকিউরিটি, স্লাইডার এমন হাজারো প্লাগিন পাবেন। সেখান থেকে আপনার যেটা দরকার সেটাই ব্যবহার করতে পারবেন। আপনার কাঙ্খিত প্লাগিন যদি না পান তার জন্য আছে প্রিমিয়াম প্লাগিন। এরপরও যদি আপনার কাস্টম কোন ফাংশন দরকার হয়, তাহলে ডেভেলপার হায়ার করে আপনার ইচ্ছা মত প্লাগিন বানিয়ে নিতে পারেন।

SEO ফ্রেন্ডলিঃ

আপনার ই-কমার্স সাইটটি যদি কাস্টমার গুগল সার্চে না পায় তাহলে ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীতার ৮০% উদ্দেশ্যই বৃথা। গুগল র‍্যাঙ্কের এই কাজটি করা হয় SEO(সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) দিয়ে। এই কাজ অনেকটাই সহজ করে দেয় ওয়ার্ডপ্রেস। কিভাবে?? কারন, ওয়ার্ডপ্রেসের আছে বিল্ট-ইন SEO ব্যবস্থা। পাশাপাশি রয়েছে SEO প্লাগিন। যেগুলার মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার সাইটের SEO করতে পারবেন।

সিকিউরিটিঃ

ওয়ার্ডপ্রেসের সিকিউরিটি অনেক জোরদার। সিকিউরিটি আরো হার্ড করতে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। পাসওয়ার্ড বা সেন্সিটিভ বিষয় গুলো একটু নিয়ম মেনে ব্যবহার করলেই সিকিউরিটি নিয়ে আর কোন চিন্তা করতে হবে না। সেই সাথে ফ্রী সিকিউরিটি প্লাগিন তো আছেই। আর ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট-এর নিরাপত্তার জন্য করনীয় বিষয়গুলো জানতে আমাদের আর্টিকেলটি দেখতে পারেন।

সহজ ম্যানেজমেন্টঃ

ওয়ার্ডপ্রেস ম্যানেজ করা অনেক সহজ। এর এডমিন ড্যাশবোর্ড অনেক সহজ, যে কেউই বুজতে পারবে। ফেসবুক পেজ ম্যানেজ এর মতই সহজ। আর কোন কিছু বুজতে না পারলে ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন। পেজ, পোস্ট, প্রোডাক্ট এড, ডিলেট, ইডিট করতে পারবেন খুব সহজেই একটু টেক নলেজ থাকলেই।

বিশাল ইউজার ও ডেভেলপার কমিউনিটিঃ

বহুল ব্যবহৃত হওয়ায় ওয়ার্ডপ্রেসের ইউজার ও ডেভেলপার কমিউনিটি অনেক বিস্তর। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সট্রাগ্রাম সহ সব সোসাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপ পেজ পাবেন। তাই যে কোন ধরনের সাজেশন, সমস্যার সমাধান, টিপ্স-ট্রিক্স, সাম্প্রতিক নিউজ সব পাবেন হাতের নাগালেই।

আপনার সাইটের ভিজিটর কম হোক বা বেশি হোক বা খুব বেশি হোক না কেন ওয়ার্ডপ্রেস হ্যান্ডেল করতে পারে। কারন ওয়ার্ডপ্রেসের ভিজিটর লিমিট নাই। তবে ইউজার হ্যান্ডেলের পরিমানটা নির্ভর করে হোস্টিং ক্যাটেগরি এর উপর। শেয়ারড হোস্টিং এ মাসে ৪০,০০০ পর্যন্ত ইউজার কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই ওয়ার্ডপ্রেস হ্যান্ডেল করতে পারে। আপনার ইউজার যদি অনেক বেশি হয় সেক্ষেত্রে ভাল ক্যাটেগরির হোস্টিং ব্যবহার করতে হবে, যেমন ডেডিকেটেড, ভিপিএস বা ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন।

এখন বুঝতে পেরেছেন? কেন ওয়ার্ডপ্রেস এত জনপ্রিয়। এতকিছু বোঝার পর যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন আপনার ওয়েবসাইটটি ওয়ার্ডপ্রেসেই তৈরি করবেন, আর এই ব্যপারে নিজস্ব কোন সোর্স নেই তাহলে বিনা দিদ্ধায় যোগাযোগ করতে পারেন ইয়াপ্পোবিডি-এর সাথে।

Facebook Comment