ফেসবুক অ্যাড সহজ করুন, খরচ কমান “অটোমেটেড রুলস”

ফেসবুক অ্যাড সহজ করুন, খরচ কমান “অটোমেটেড রুলস”

ফেসবুক অ্যাড সহজ করুন, খরচ কমান “অটোমেটেড রুলস” টাইটেল দেখেই হয়তোবা সম্পূর্ন পোষ্টটা পড়ার একটা প্রিপারেশন নিয়ে ফেলেছেন? হ্যা, আপনার এই প্রয়াস আজ সফল হতে চলেছে। আমরা আজ খুব ভালোভাবে আপনাকে জানানোর চেষ্ঠা করবো কিভাবে আপনি আপনার ফেসবুক অ্যাডের খরচ কমিয়ে আপনার সেলস জেনারেট করতে পারবেন।ফেসবুকে অ্যাড দেওয়া বা বুস্ট করা এখন প্রায় আমাদের একটা ট্রেন্ড হয়ে দাড়িয়েছে। একইসাথে সবার মনে একটাই প্রবনতা খরচ কমিয়ে সহজে কিভাবে সর্বোচ্চ সফলতা পাওয়া সম্ভব।
ফেসবুক অ্যাডের খরচ কমানোর উপায় খোঁজার আগে একটু বুঝে নেওয়া দরকার ফেসবুক আসলে কিভাবে কাজ করে। ফেসবুকের অ্যাড মেকানিজম একটি বিডিং সিস্টেম এর মাধ্যমে চলে। অর্থাৎ আমরা প্রত্যেকেই (সকল অ্যাডভারটাইজাররা) প্রতিটি রেজাল্ট এর জন্য ফেসবুককে একটি নির্দিষ্ট এমাউন্ট দেবার জন্য বিড করি। ফেসবুক প্রতি মুহূর্তের ডিমান্ড-সাপ্লাই যাচাই করে বিডে উপরের দিকে থাকা অ্যাডগুলো প্রদর্শন করে। আপনি যদি নিজে থেকে বিড (ম্যানুয়াল বিড) না করেন তবে ফেসবুক আপনাকে অ্যাভারেজ বিড করবে অর্থাৎ বাজারদরে চার্জ করবে। অতএব আপনার টার্গেট কাস্টমারদের নিউজফিডে থাকতে হলে আপনাকে অবশ্যই বিডে উপরের দিকে থাকতে হবে, মানে আপনাকে নিয়মিত ভিত্তিতেই বিড বাড়াতে হবে নতুবা আপনার প্রতিযোগীরা হয়ত আপনার থেকে একটু বেশি বিড করে আপনাকে পেছনে ফেলে দিবে।
এটি এমন একটি প্রক্রিয়া; দিনকে দিন যত বেশি মানুষ ফেসবুকে অ্যাড দিতে আসবে বিডিং ততই বাড়তেই থাকবে। বাংলাদেশে যেহেতু ই-কমার্স ব্যবসায় কেবল মাত্র গ্রোথ স্টেজে আছে আরও অনেক বেশি মানুষ আগামী কয়েক বছরে ই-কমার্স শুরু করবে সেহেতু অদূর-ভবিষ্যতে ফেসবুক অ্যাডের খরচ কমার কোন কারণ নেই।
আমরা এখন প্রায় সবাই আমাদের ব্যবসার প্রচারের প্রধান মাধ্যম হিসাবে কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই ফেসবুক অ্যাডকে বেছে নিচ্ছি। আর সত্যিকার অর্থে ফেসবুক অ্যাড অনেক কাজেও দিচ্ছে। যদি দেখা যাচ্ছে কোন ব্যক্তির কাছে ভালো মানের কিছু ইউনিক প্রডাক্ট আছে, কিন্তু তার কোন কাস্টমার বেইজ বা কোন মার্কেটিং স্ট্রাটেজি জানা নেই। সেক্ষেত্রেও ঔ ব্যাক্তিটিও যদি তার পন্যের সঠিক বিবরন ও সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে ফেসবুকের অ্যাড দিতে পারে নিমিষেই তার পণ্য বিক্রয় হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কি?
সরাসরি খরচ কমানোর উপায় যেহেতু আমাদের হাতে নেই তাই এক্ষেত্রে আমরা ফেসবুক অ্যাড অটোমেটেড রুলস অবলম্বন করতে পারি।
ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজারের প্রথম দিকেই একটা অপশন আছে “Rules” এটা আসলে আমরা কতজন জানি অথবা কতজন ব্যবহার করেছি, আমার কাছে মনে হয় এটা ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজারের চমৎকার একটা ফিচার যেটা আপনার সময় বাঁচাবে এবং আপনার খরচও।
এটাকে একরকম লুকানো হিরা বলা যেতে পারে খরচ এবং সময় বাঁচানোর জন্য যেটা ফেসবুক নিজেই করে দিবে আপনাকে কিছু করতে হবে না।
অটোমেটেড রুলসের মাধ্যমে আপনি ফেসবুকে কন্ডিশন করে দিতে পারবেন key performance indicators (KPIs) এর জন্য। যেমন লাইক, রিচ,লিডস, অথবা অ্যাড ক্যাম্পেইন এর প্রয়োজনীয় জায়গা যেমন (ক্যাম্পেইন, অ্যাড সেট, অ্যাড ইত্যাদি), আপনি যখন কোন কন্ডিশন সেট করে দিবেন ফেসবুক সেটা নির্দিষ্ট সময় পর পর খুঁজবে (এটা ও আপনি ঠিক করে দিতে পারবেন কত সময় পরপর ফেসবুক আপনার কন্ডিশন চেক করবে) এবং চেক করে যদি দেখে আপনার কোন অ্যাডের সাথে আপনার কন্ডিশন মিলে গেছে তখন সেখানে আপনি যে একশন দিয়েছিলেন সেটা গ্রহন করবে।

এই রুলসের মাধ্যমে কিভাবে আপনার অ্যাডের খরচ কমতে পারে

আপনি হয়তো অ্যাড দিয়ে ঘুমিয়ে গেছেন অথবা জরুরি কোন কাজে আছেন, প্রতিনিয়ত অ্যাড মনিটর করা সম্ভব হচ্ছে না তখন আপনার অ্যাডের খরচ যদি বেশি হয়ে হয় যায় আপনি শুধু আফসোস ই করতে পারবেন কিন্তু এখানে রুলস দিয়ে রাখলে ফেসবুক নিজেই আপনার রুলস অনুযায়ী কাজ করবে।
যেমন, আপনি সিধান্ত নিলেন আপনার CPC যদি ২৫ সেন্টের উপরে কাটা শুরু করে তাহলে ফেসবুক আপনার অ্যাড অফ করে দিবে, এরপর আপনার সেই অ্যাডের CPC যদি ২৫ সেন্টের উপরে যায় তাহলে ফেসবুক আপনার অ্যাড অফ করে দিবে আপনি অনলাইনে থাকুন আর না থাকুন।

 

অ্যাডের পারফর্মেন্স ভালো থাকলে সেটাকে আরো ভালো করা

যেটা উপরে বলছিলাম যে আপনি যেহেতু প্রতিনিয়ত অ্যাড মনিটর করতে পারছেন না, তাই আপনার অজান্তেই ফেসবুক অ্যাডে অনেক কিছু ঘটতে পারে। সেটা যেমন হতে পারে আপনার CPC অথবা CPE অনেক বেশি কাটা আবার হতে পারে আপনার অ্যাড ভালো পারফর্ম করছিলো কিন্তু, বাজেট দেন নাই তাই ফেসবুক সেটা ধরে রাখতে পারেনি। যেমনঃ

আপনি যদি মনে করেন আপনার একটা অ্যাডের রিচ যদি ৮০০০ অথবা তার বেশি হয় তাহলে ফেসবুক আপনার ডেইলি অথবা লাইফটাইম বাজেট বাড়িয়ে দিবে তাহলে সেটাও সম্ভব, কন্ডিশনে ঠিক করবেন রিচের পরিমান, একশনে ঠিক করবেন বাজেট কত বাড়বে।

একাধিক কন্ডিশনের মাধ্যমে রুলস তৈরি করা যাবে

এটা আমি একদম সহজ করে বুঝালাম, আপনি আরো কঠিন ভাবে কন্ডিশনে যেতে পারবেন, যারা এক্সেলের কন্ডিশনের সুত্রগুলা ভালো বুঝে তারা এটা অনেক সহজেই করতে পারবে।

যেমন আপনার কন্ডিশন হলো এমন যদি আপনার অ্যাড CPC 25 সেন্টের উপরে যায় এবং রিচ হয় ২০,০০০ এর উপর তাহলে একটা একশন ঠিক করে দিবেন যেমন সেটা অ্যাড বন্ধ হতে পারে, অ্যাডের বাজেট বাড়তে অথবা কমতে পারে।

আপনি চাইলে ফেসবুক কোন একশনে যাবে না, শুধু নোটিফাই করবে

তবে আপনি যদি মনে করেন ফেসবুক কোন একশনে যাবে না শুধু আপনাকে জানাবে তাহলে সেটা ও করা সম্ভব, শুধু নোটিফিকেশন পাঠাবে এটা সিলেক্ট করে দিলে ফেসবুক আপনার কন্ডিশন ম্যাচ করলে কোন একশনে না গিয়ে নোটিফিকেশন পাঠাবে এরপর আপনি আপনার ইচ্ছা মত অথবা প্রয়োজন মত একশন ঠিক করে নিতে পারবেন।
আরেকটা জিনিস বলে শেষ করি সেটা হচ্ছে এখানে আপনি যে কোন একটা অ্যাডের উপর, অথবা সবগুলা অ্যাডের উপর অথবা গ্রুপ অ্যাডের উপরও এই রুলস এপ্লাই করতে পারবেন।
আপনারা বিজনেস ম্যানেজার থেকে ‘Automated Rules” গিয়ে ব্যাপারটা দেখে আসতে পারেন, আমার কাছে খুব মজার এবং ইফেক্টিভ লেগেছে ব্যাপারগুলা।

ফেসবুক অটোমেটেড রুলস ছাড়াও আমরা আমাদের অ্যাডের খরচ কমাতে আরো যা যা পদক্ষেপ নিতে পারিঃ

  • True-Bid খুঁজে বের করাঃ

True-Bid কন্সেপ্ট এর তাৎপর্য হল ঠিক সেই পরিমাণ বিড করা যা আমরা আমাদের কোন একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য খরচ করতে প্রস্তুত আছি। ধরে নিচ্ছি আমার একটি ই-কমার্স রয়েছে যার একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির পণ্যের বিক্রয়ের জন্য ১০০ টাকা বরাদ্দ আছে। অর্থাৎ আমার এই পণ্যটি বিক্রয়ের জন্য ট্রু-বিড হবে ১০০ টাকা ($1)। এখন যদি ১টি পণ্য বিক্রয় করার জন্য অ্যাভারেজে আপনার ১০০০ মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার হয় তবে এই ১০০০ মানুষকে রিচ (Reach) করার জন্য আপনার True-Bid হবে ১০০ টাকা ($1)। তেমনি ভাবে ১ টি প্রোডাক্ট বিক্রয় করার জন্য যদি অ্যাভারেজে আপনার ৫০০ টি ওয়েবসাইট ক্লিক লাগে তবে প্রতিটি ওয়েবসাইট ক্লিকের জন্য True-Bid হবে ০.২০ টাকা।

একটু অ্যাডভান্সড লেভেলে আপনি ফেসবুক থেকে সরাসরি কনভার্সন ক্যাম্পেইন করতে পারেন যেখানে ফেসবুকই আপনার হয়ে বিক্রয় বা লিড জেনারেশন এর জন্য অপ্টিমাইজড করবে।
  • কাস্টমারের লাইফ টাইম ভ্যালু হিসেব করে বিড করতে হবেঃ

সারা বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি গুলো এই কৌশলটি অনুসরণ করে থাকে। আপনার True-Bid যদি ফেসবুকের অ্যাভারেজ বিড থেকে কম হয় তবে আপনার উচিত হবে প্রতিটি কাস্টমারের লাইফ টাইম ভ্যালু বের করা এবং তার বিপরীতে বিড করা। কেননা একজন কাস্টমার যদি একবার আপনার থেকে কোন পণ্য কিনে এবং আপনার সার্ভিসে সন্তুষ্ট হয় তবে সারা জীবন সে আরও বেশ কয়েকবার কিনবে এবং এর জন্য অতিরিক্ত কোন মার্কেটিং দরকার হবে না। এখন ধরেন আপনার প্রতিটি সন্তুষ্ট কাস্টমার সারাজীবনে আপনার থেকে ১০০,০০০ টাকার সমমূল্যের পণ্য কিনবে এবং যা থেকে আপনার ১০,০০০ টাকা লাভ করার সম্ভাবনা আছে তবে ঐ কাস্টমারের লাইফ টাইম ভ্যালু আপনার কাছে ১০,০০০ টাকা। এখন কোন ভাবে আপনি ঐ কাস্টমারের কাছে একবার আপনার সন্তোষজনক সেবা পৌঁছে দিতে পারলেই কিন্তু আপনার ১০,০০০ টাকার ব্যবসা একপ্রকার নিশ্চিত। এখন প্রথমবার তাকে কাস্টমার বানাতে আপনি ১০,০০০ এর নিচে যেকোন অঙ্কের বিড করতে পারেন। এখানে ধরে নিচ্ছি এই কাস্টমারকে সার্ভিস দিলে/না দিলে আপনার ব্যবসায়ের মোট খরচের কোন পরিবর্তন হবে না।
এখন যদি মনে করেন আপনার রিপিট সেল হবার কোন সুযোগ নেই তবে আপনাকে আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে উদ্ভাবনী হতে হবে। রিপিট সেল বা রেফারেল সেল করার ব্যবস্থা করতে হবে।
এভাবে আমরা সবাই যদি ঠিক মত আমাদের কাস্টমারের লাইফ টাইম ভ্যালু এবংTrue-Bid বের করতে পারি এবং সে অনুযায়ী ঠিক মত টারগেটিং করতে পারি তবেই আমাদের ই-কমার্স গুলো আলোর মুখ দেখবে।

আর আপনি যদি ফেসবুক অ্যাড সম্পর্কে হাতেখড়ি হয়ে থাকেন তার জন্য তো আমরা আছি। এই ধরণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে YappoBD থেকে নিতে পারেন ফ্রি কনসাল্টিং। আমরা আমাদের ক্লাইন্টদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করি।

আপনিও পারেন আপনার প্রশ্নটি করতে। আমরা চেষ্টা করবো আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে। প্রশ্ন করতে আপনার মোবাইল নাম্বার ও পেজ লিঙ্ক সহ প্রশ্ন টি সুন্দর করে মেসেজ করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজে

Facebook Comment