ফেসবুকের মাধ্যমে কিভাবে আপনার ছোট আকারের ব্যবসার প্রচার করবেন?

ফেসবুকের মাধ্যমে কিভাবে আপনার ছোট আকারের ব্যবসার প্রচার করবেন?

প্রতিটি ব্যবসার স্যোশাল মিডিয়া পেজ থাকা উচিৎ সেটি ছোট ব্যবসা হোক আর বড়, বিশেষ করে ফেসবুক থাকা বাঞ্ছনীয়। ফেসবুকের গ্রুপগুলোর শক্তিশালী অ্যাডভারটাইজিং অপশনগুলো ব্যবহার করে যেকোন ধরনের ছোট এবং মাঝাড়ী আকারের ব্যবসার প্রসার সম্ভব। তাছাড়া ফেসবুকের আপনার দৃঢ় অবস্থান এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে সম্পৃক্ততা আপনার পণ্য/সেবার বিক্রির সম্ভাবনা অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে।

ফেসবুকে আপনার একটি ব্যবসায়িক পেজ থাকা মানে আপনার ব্যবসার প্রতি গ্রাহকদের চোখে  একপ্রকার বিশ্বস্ততা স্থাপন হতে সাহায্য করে। অন্যথায় গ্রাহকগন আপনার ব্যবসাকে আউটডেটেড অথবা অবিশ্বস্থতার চোখে হিসাব করে থাকে।

ফেসবুকে আপনার ব্যবসার প্রচার এর এত এত উপায় আছে যে, আপনি কনফিউজ হয়ে যাবেন কোথা থেকে শুরু করবেন। তাই আমরা আমাদের এই ব্লগ পোষ্টের মাধ্যমে আলোচনা করবো কিভাবে সহজ ৬টি ধাঁপ অনুসরন করে ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার প্রচার এবং প্রসার নিশ্চিত করবেন।

 

স্টেপ ০১ঃ একটি ব্যবসায়িক ফেসবুক পেজ তৈরি করুন

যদি আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার একটি দৃঢ় এবং শক্তিশালি অবস্থান প্রকাশ করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই আপনার ব্যবসার জন্য আলাদা একটি ব্যবসায়িক পেজ তৈরি করতে হবে। একটি পেজ সাধারনত পার্সোনাল অ্যাকাউন্টের মতোই কিন্তু  এটি ব্রান্ড অথবা ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে। যেকোন ব্যবহারকারীকে কোন পেজের পোষ্ট দেখতে হলে অবশ্যই তাকে ওই পেজে লাইক দিতে হবে।

স্টেপ ০২ঃ রেগুলার পোস্ট

ফেসবুককে আপনার ব্যবসার প্রমোটের কাজে ব্যবহার করতে চাইলে পেজ সেটআপের চাইতেও বেশী জরুরী রেগুলার পোষ্ট করা।

“ফান্ডেরা” এর সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার “কেইট ক্যাম্পবেল” বলেন ফেসবুকে আপনি যত বেশী পারেন পোষ্ট করুন না হলেও দিনে সর্বনিম্ন একবার পোষ্ট করুন। আপনার সম্ভাব্য গ্রাহক এবং আপনার ফ্যান ফলোয়ার সবসময় আপনার সাথেই রিলেট করছে তারা যেন এমনটাই অনুভব করে সবসময়।

প্রতিদিন পোষ্ট করা যেমন জরুরি তেমন পোষ্টকৃত কন্টেন্ট এর কোয়ালিটিও ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ন। ক্যাম্পবেল এটাই সাজেষ্ট করেন যে, আপনি কোন পোষ্টের বিহাইন্ড দ্যা সিনও পোষ্ট করবেন যাতে আপনার কাস্টমারগণ কোন একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের পিছনে আপনার কর্মিগণ কতটা ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করে সেটিও উপলব্ধি করতে পারে।

আপনার অডিয়েন্স আসলে আপনার বা আপনার পেজ থেকে কি ধরনের কন্টেন্ট প্রত্যশা করে সেই বিষয়টি নিয়ে আপনি যদি  দ্বীধাগ্রস্থ থাকেন তাহলে আপনি আপনার অডিয়েন্স এর কাছ থেকে সেই বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনাও নিতে পারে কোন একটি পোলের মাধ্যমেও।

ফেসবুকের অ্যাডভান্স অডিয়েন্স ইনসাইটস আপনার পেজের ফ্যান ফলোয়ার কোন ধরনের পোষ্টে ভালো Engagement দেখাচ্ছে সেই বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করে আপনার পোষ্টের ধরন যেকোন সময় পাল্টাতে পারেন অথবা আপনার বিজনেস স্ট্রাটেজি বদলাতে পারেন।

 

স্টেপ ০৩ঃ পেজ প্রমোশন

মনে করুন আপনি আপনার পেজে ভালো মানের কিছুই শেয়ার করছেন এবং তা আপনার পেজের অডিয়েন্সের মনে এক ধরনের পজেটিভ ইমপ্যাক্ট ফেলার কথা, অথছ সেই ধরনের পোষ্টটিতে তেমন কোন এনগেইজমেন্ট হচ্ছেনা বা কোন ধরনের সাড়া পাচ্ছেন না। এমতাবস্থায় আপনি পেইজ ক্রিয়েট করার প্রাথমিক পর্যায়ে আপনার ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে ইনভাইটেশন পাঠাতে পারেন এতে আপনার পেজের এনগেইজমেন্ট কিছুটা হলেও বাড়বে।

ফেসবুক মার্কেটিং এর চিরাচরিত প্রথাও আপনার অডিয়েন্স বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। যেমন, আপনি চাইলে আপনার ইমেইল সিগনেচারে আপনার ফেসবুক পেজের লিংক দিতে পারেন অথবা এটি হতে পারে আপনার বিজনেস কার্ড।

তাছাড়াও আপনি আপনার ব্যবসার  জন্য যে ধরনের প্রোডাক্ট/সার্ভিস দিতে থাকেন সেগুলোতেও আপনার সকল ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া  অ্যাড্রেস সংযুক্ত করে দিতে পারেন অথবা যেকোন ধরনের মার্কেটিং ম্যাটেরিয়ালসে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য সংযুক্ত করতে পারেন। আর এভাবেই আপনার পেজ প্রমোশন এর প্রাথমিক কাজগুলো সম্পূর্ন হতে পারে।

স্টেপ ০৪ঃ পোষ্ট এবং ফলোয়ার এর মধ্যে এনগেইজমেন্ট বাড়ান

ফেসবুকের নতুন এ্যালগরিদম ঐসকল পোষ্টের অনুকুল হয়ে থাকে যেসব পোষ্ট-এ অডিয়েন্স এর এনগেইজমেন্ট ভালো থাকে। ফেসবুকে কোন কিছু পোষ্ট করার আগে আপনি নিজেকে অবশ্যই একবার একজন সাধারন কাস্টমার হিসাবে বিবেচনা করে দেখুুন এবং ভাবুন আপনি যা পোষ্ট করছেন তা কি সত্যিই কোন ধরনের সেলস জেনারেট করার মতো কোয়ালিটি রাখে। এবং আপনাকে সব সময় এটা মাথায় রাখতে হবে যে, ফেসবুক হলো একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সুতরাং আপনাকে অবশ্যই সামাজিকতার মধ্য দিয়েই আপনার ব্যবসার প্রোমোশন চালাতে হবে।

অডিয়েন্সদের এনগেইজমেন্ট ধরে রাখার প্রধান হাতিয়ার হলো পেজে কোয়ালিটি কন্টেন্ট পোষ্ট করা এবং নিয়মিত পোষ্ট করা। এবং ভালো রেজাল্ট এর জন্য অডিয়েন্স এর সাথে ফ্রেন্ডলি কনভারসেশনও করতে পারেন।

স্টেপ ০৫ঃ ফলোয়ারদের ফ্রেন্ডদের এনগেইজ করুন

মানুষ সাধারনত তাদের ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি যেসব জিনিসের উপর আসক্ত তারাও সেসব জিনিস ট্রাই করতে পছন্দ করে থাকে।

তাছাড়াও বর্তমানে যেকোন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবসা/সেবার প্রচারের জন্য প্রধান একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি চাইলেই যেকোন কাউকে ট্যাগ করতে পারেন যারা আপনার ব্যবসা সম্পর্কে কথা বলতে চায়। Get Social With Cat এর Owner “ক্যাট স্মিথ” বলেন আপনার গ্রাহকরা আপনার সেরা পরামর্শদাতা।

আপনার অডিয়েন্স যখন আপনার পেজে কোন Interact করবে, তখন তাদের ফ্রেন্ড তাদের নিউজফিডে সেসব অ্যাকটিভিটি দেখতে পাবে। এছাড়াও আপনি কোন ধরনের পোল এবং প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে আপনার পেজের Interaction আরো বাড়াতে পারেন।

সম্ভাব্য কাস্টমারদের আপনার ব্যবসার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য কাস্টমাররা পছন্দ করে এমন ছোট ছোট অফার দিতে পারেন। তাছাড়াও কোন স্পেশাল ইভেন্ট তৈরি করে সেখানে আপনার ফলোয়ারদের ইনভাইট করে আপনার ব্যবসার প্রোমোশন চালাতে পারেন।

স্টেপ ০৬ঃ ফেসবুক অ্যাড ট্রাই করুন

আপনি যদি ফ্রি এবং অর্গানিক উপায়ে ইউজারদের এনগেইজ করতে সমস্যার সম্মূখীন হন তাহলে ফেসবুক অ্যাড হবে আপনার জন্য বেস্ট অপশন। প্রোমোট করা ফেসবুক পোস্ট সাধারন পোস্টের মতোই কিন্তু এখানে একদম টার্গেটেড অডিয়েন্স এর এনগেইজমেন্ট নিশ্চিত করা যায়।

বর্তমানে ফেসবুক এতই অ্যাডভান্স যে আপনি আপনার অডিয়েন্সকে পিন পয়েন্ট টার্গেট করে তাদের পেশা,লোকেশন অনুযায়ী অ্যাড দিতে পারেন। ফেসবুকের অ্যাড অ্যানালাইটিক আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে আপনার অডিয়েন্স কি ধরনের ইন্টারেস্ট নিয়ে আপনার পেজ অথবা ওয়েব সাইট এক্সপ্লোর করছে।

আর আপনি যদি ফেসবুক অ্যাড সম্পর্কে হাতেখড়ি হয়ে থাকেন তার জন্য তো আমরা আছি। এই ধরণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে YappoBD থেকে নিতে পারেন ফ্রি কনসাল্টিং। আমরা আমাদের ক্লাইন্টদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করি।

আপনি ও পারেন আপনার প্রশ্নটি করতে। আমরা চেষ্টা করবো আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে। প্রশ্ন করতে আপনার মোবাইল নাম্বার ও পেজ লিঙ্ক সহ প্রশ্ন টি সুন্দর করে মেসেজ করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজে

Facebook Comment