You are currently viewing ই-মেইল মার্কেটিং কি এবং বিজনেস এর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ 

ই-মেইল মার্কেটিং কি এবং বিজনেস এর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ 

আগে যাদের শুধু কম্পিউটার ছিলো তাদেরই কেবল ই-মেইল অ্যাড্রেস ছিলো। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে এখন শহর তো বটেই গ্রামের প্রতিটি মানুষের হাতে হাতে স্মার্ট ফোন। আপনি যখন একটি নতুন ফোন ইউজ করতে যাবেন তখন যে জিনিস টা সবার আগে লাগবে তা হলো ই-মেইল অ্যাড্রেস। প্লে স্টোর থেকে কিছু ডাওনলোড করতে গেলেও আগে ই-মেইল অ্যাড্রেস দিতে হবে। এরকম অনেক অ্যাপস রয়েছে যা ই-মেইল অ্যাড্রেস ছাড়া চালানো যায় না। তাহলে ভাবুন দিন দিন ই-মেইল এর প্রসারতা কত টা বাড়ছে। এইজন্যই আগে ই-মেইল মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তা ততটা না থাকলেও বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা বহুগুণে বেড়ে চলেছে। তাই এখানে সবাই তাদের বিজনেস এর প্রসারতার জন্য প্রমোশন চালিয়ে যাচ্ছে। এই ব্লগ টি পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন বর্তমান যুগে ই-মেইল মার্কেটিং এর গুরুত্ব কতটা। আপনার বিজনেস এর সফলতার মূলমন্ত্র হতে পারে ই-মেইল মার্কেটিং।

ই-মেইল মার্কেটিংঃ

ই-মেইল মার্কেটিং হলো ডিজিটাল মার্কেটিং অন্যতম একটি অংশ। ই-মেইল এর সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। আর মার্কেটিং হলো কোনো পণ্য বা সেবার প্রোমোশন এর জন্য প্রচার প্রচারণা চালানোর প্রক্রিয়া। কোনো  প্রডাক্টের প্রমোশনের জন্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবে আমরা অনেক কিছু কে-ই বেছে নেই। যেমনঃ নিউজ পেপার, টেলিভিশন, ফেইসবুক এ্যাড, ব্যানার ইত্যাদি। তেমনই ই-মেইল মার্কেটিং হলো ই-মেইল এর মাধ্যমে কোনো প্রডাক্ট এর প্রচার প্রচারণা চালানো। ই-মেইল মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেতে কিছু বেসিক জ্ঞান থাকা জরুরি যেমনঃ স্প্যাম, বাউন্স, ই-মেইল টেম্পলেট, ই-মেইল সাবজেক্ট, ই-মেইল ক্যাম্পেইন ইত্যাদি। নিচে এগুলো নিয়ে অল্প পরিসরে আলোচনা করা হলো। 

স্প্যামঃ 

ই-মেইল মার্কেটিং এ স্প্যাম হলো সেই সকল অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ব্যতীত পাঠানো হয় এবং যার উদ্দেশ্য থাকে বানিজ্যিক বিজ্ঞাপনের প্রচার। স্প্যাম মেসেজ থাকে স্প্যাম ফোল্ডারে। মেসেজ স্প্যাম ফোল্ডারে যাওয়ার কারন হলো একাধিক ইমেজ পাঠানো, কিছু ওয়ার্ড আছে যেমন ফ্রি,অফার এই ওয়ার্ডগুলো সাবজেক্ট এ ইউজ করা, অ্যাফিলিয়েট লিংক পাঠানো, ব্লক লিস্ট আইপি ব্যবহার করা ইত্যাদি। 

বাউন্সঃ 

ই-মেইল রিজেক্ট হওয়া কে বাউন্স বলে। ই-মেইল নানা কারণে বাউন্স হতে পারে যেমনঃ ই-মেইল ইনভ্যালিড, প্রভাইডার এর সার্ভার ডাউন হলে ইত্যাদি। বাউন্স ২ প্রকার। হার্ড বাউন্স এবং সফট বাউন্স। 

ই-মেইল সাবজেক্টঃ 

একটা আন-নন ই-মেইল এর সাবজেক্ট দেখে তবেই কিন্তু আমরা সেটাকে ওপেন করি। তাই প্রমোশনাল মেসেজ টি হতে হবে তথ্যবহুল এবং স্ট্যান্ডার্ড। 

ই-মেইল টেম্পলেটঃ 

কোনো প্রডাক্ট এর প্রোমোশনের জন্য যে বিজ্ঞাপন আমরা ডিজাইন করে ই-মেইল এ সেন্ড করি সেটাই টেম্পলেট। এখানে আপনি ওয়েবসাইট এর লিংক ও এ্যাড করে দিতে পারেন।

ই-মেইল কি এবং এর সম্পর্কে একদম বেসিক ধারণা নিশ্চয়ই আপনার হয়ে গেছে। এখন ই-মেইল মার্কেটিং কেনো গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে আমরা জানব।

নতুন কাস্টমার পাওয়া যায়ঃ 

বর্তমানে ই-মেইল ব্যবহার কারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর ই-মেইল অ্যাড্রেস যেহেতু সবার ফোনেই রয়েছে তাই মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি নতুন অনেক কাস্টমার পাবেন।এর ফলে আপনার প্রোডাক্ট এর সেল বাড়বে। 

নির্দিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়ঃ

আপনি যদি আপনার টার্গেটেড কাস্টমার কে না টার্গেট করে বিজনেস এর মার্কেটিং করতে থাকেন। ফেসবুক এ বিজ্ঞাপন দিতে থাকেন আরও অনেক ধরনের প্রচার প্রচারণা চালান, সেটা আপনার কোন কাজে আসবে না। আপনাকে আগে টার্গেটেড কাস্টমার কে বাছাই করতে হবে। তারপর আপনার মার্কেটিং করতে হবে। ই-মেইল মার্কেটিং এ আপনার প্রোডাক্ট এর মার্কেটিং করা আরও সহজ। এখানে খুব সহজে টার্গেটেড কাস্টমার এর কাছে পৌঁছানো যায়। ফলে আপনার হিউজ পরিমাণে মার্কেটিং করতে হয় না। হোয়াইট হ্যাট মেথড এর মাধ্যমে আপনি টার্গেটেড কাস্টমার খুজে পাবেন। হোয়াইট হ্যাট মেথড এ কাস্টমারদের থেকে অনুমতি নিয়ে আপনি তাদের ই-মেইল কালেক্ট করতে পারবেন। এই পদ্ধতি তে আপনি ১০০% ভ্যালিড কাস্টমার পাবেন। 

সময় ও অর্থ লাঘব হয়ঃ 

উপরের পয়েন্ট টার কথাই ভাবা যাক৷ আপনি যদি অনান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এ মার্কেটিং করেন তাহলে আপনার অনেক টাইম লাগবে। আপনাকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে, কিন্তু সেটা যে টার্গেটেড কাস্টমার এর কাছে পৌঁছাবে তার ও কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু আপনি ই-মেইল এ আপনার বিজনেস এর মার্কেটিং করলে আপনার সময় অনেক বেচে যাবে এবং আপনি ওই সময় টুকু অন্যান্য কাজে ব্যয় করতে পারেন। এতে আপনার বিজনেস সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। বিজ্ঞাপন তৈরি, ব্যানার, লিফলেট ইত্যাদি তে আপনার অর্থ বেশি ব্যয় হবে কিন্তু ই-মেইল মার্কেটিং এর ফলে আপনি নির্দিষ্ট কাস্টমার দের কে টার্গেট করে আপনার বিজনেস এর প্রোমোশনাল মেইল টা পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে করে আপনার অর্থ বেচে যাবে। নতুন বিজনেস হলে ই-মেইল মার্কেটিং করে অর্থের যে লাঘব হবে তা দিয়ে নতুন প্রোডাক্ট কেনা যাবে। 

শ্রম লাঘবঃ  

ই-মেইল মার্কেটিং এর ফলে আপনার খুব বেশি টাইম ওয়েস্ট করতে হয় না। আপনার বিজনেস কে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে অতি দ্রুত সময়ে সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব। কাস্টমার টার্গেট করে প্রোমোশনার মেইল পাঠানো হয় বলে শ্রম কম লাগে।

দ্রুত সময়ে ব্যবসার প্রসারতাঃ 

বিজনেস এর ক্ষেত্রে ই-মেইল মার্কেটিং একটি দ্রুততম প্রক্রিয়া। আপনি যদি খুব দ্রুত আপনার বিজনেস এর পাবলিসিটি চান তাহলে আপনার জন্য ই-মেইল মার্কেটিং সবচেয়ে ভালো। ই-মেইল মার্কেটিং এর ফলে এটি খুব দ্রুত সময়ে টার্গেটেড কাস্টমার এর কাছে পৌঁছে যায়। যার ফলে সময়, অর্থ  এবং শ্রম লাঘব হয়। ব্যবসার তখনই প্রসারতা ঘটে যখন এটি সবার কাছে পৌঁছে যায়। সবাই যখন আপনার বিজনেস কে এক নামে চিনবে তখন আপনার ব্যবসায় বিক্রয় বাড়বে। বিক্রয় বাড়ার সাথে সাথে ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে। 

কেন করবেন ই-মেইল মার্কেটিংঃ 

আপনি যদি আপনার বিজনেস এর সফলতা দ্রুত সময়ে চান তাহলে এটি আপনার জন্য সব চাইতে ভালো মাধ্যম। কারণ এর মাধ্যমে আপনার বিজনেস এর বার্তা চোখের পলকে সবার কাছে পৌঁছে যাবে। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৩৪% এর বেশি লোক ই-মেইল ব্যবহার করে। এখন এই সংখ্যা টা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ প্রতিদিনই স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। আগে মানুষ কম্পিউটার দিয়ে ই-মেইল এ মেসেজ প্রদান করতো কিন্তু এখন স্মার্ট ফোন দিয়েই মানুষ একে অপরের সাথে মেইল এ কথা বলে। গড়ে ৯৪% মানুষ প্রতিদিন প্রায় একবার হলেও ই-মেইল চেক করে। হিসেব করলে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন লোক ই-মেইল ব্যবহার করে। আর এই সংখ্যা টা আগামী বছরে আরও বাড়বে। মানুষ ই-মেইল যেহেতু প্রতিনিয়ত চেক করে তাই ব্যবহারকারীর ই-মেইল এ আপনার বিজনেস এর বিভিন্ন অফার, কুপন এর বিজ্ঞাপন পাঠানোর মাধ্যমে সে আপনার লিংক এ প্রবেশ করে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে এবং আপনার বিজনেস এর সেবা বা প্রোডাক্ট টি ক্রয় করবে। ই-মেইল মার্কেটিং করলে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অনেক বেশি এক্টিভ ইউজার পাবেন। এবং আপনার অর্থের ও সাশ্রয় হবে। উল্লেখ্য, ই-মেইল মার্কেটিং এ আপনার প্রতি ১ ডলার ব্যয় এ গড় রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট প্রায় ৪৫ ডলার। ই-মেইল মার্কেটিং এ আপনি আপনার সেবা স্মার্ট ফোন ইউজার দের কাছেও পৌঁছাতে পারবেন। আমেরিকা তে ই-মেইল মার্কেটিং এর প্রসারতা ব্যাপক। অনলাইন বিজনেস গুলোর প্রায় ৪৪% বিজনেস-ই ই-মেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে হয় এবং ২০% সেল হয়। তাহলে বুঝতেই পারছেন বিজনেস এর ক্ষেত্রে  এটা কতটা কার্যকরী। 

পরিশেষেঃ

উপরিউক্ত ব্লগ টি পড়ে আপনি নিশ্চয়ই ই-মেইল মার্কেটিং এর গুরুত্ব টা অনুভব করতে পেরেছেন। আপনার যদি এনাফ টাইম না থাকে নিজের বিজনেস টা কে ই-মেইল মার্কেটিং এর আওতায় আনতে তাহলে আজই এক্সপার্ট দের যোগাযোগ করুন। এ ছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে  যেকোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন yappobd.com এর সাথে। আমরা আপনার বিজনেস কে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দেব।

Facebook Comment