ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড বাড়াবেন যেভাবে

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড বাড়াবেন যেভাবে

সাইট লোডিং স্পীড🚀  সাইট লোডিং স্পীড 🚀 সাইট লোডিং স্পীড🚀

বর্তমান সময়ে সবার প্রথম চাহিদাই হচ্ছে সাইটের লোডিং স্পীড। যে কোন ধরনের ওয়েবসাইটের ইউজার, মালিক, যে ম্যানেজ করে সবার একটাই চাওয়া সাইট যেন খুব দ্রুত লোড হয়। কেন সবাই স্পীডের প্রতি এত আগ্রহী। অবশ্যই কারন আছে। সাইট লোডিং স্পীডের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। গুগল র‍্যাঙ্ক, SEO এর প্রথম জিনিসটাই হচ্ছে সাইটের লোডিং স্পীড। আপনার ক্যাটেগরির মধ্যে গুগল সেই সাইটকেই প্রথমে রাখবে, যার লোডিং টাইম সব থেকে কম। ই-কমার্স সাইটের জন্য লোডিং স্পীড আরো গুরুত্বপূর্ন। সাইট লোড হতে অনেক সময় নিলে কাস্টমার ততক্ষনে অন্য সাইটে চলে যাবে। সাইটের লোডিং স্পীড হওয়া উচিত ২ সেকেন্ড বা তার কম। বর্তমানে এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় সমস্যা। প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ গুলোর নিত্য নতুন আপডেটের কারনে সাইটের স্পীড সব সময় সমান রাখা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বিশেষ করে ওয়ার্ডপ্রেসের সব থেকে কমোন সমস্যাই হচ্ছে লোডিং টাইম। কিন্তু তার মানে  এই না যে ওয়ার্ডপ্রেস মানেই স্লো লোডিং। অনেক ছোট ছোট কাজ আছে, যেগুলা একটু নিয়ম মেনে করলেই আপনার সাইট সব সময় থাকবে সুপার ফাস্ট। আর ওয়ার্ডপ্রেসেই কেন আপনি আপনার ওয়েবসাইটি তৈরি করবেন সেটি জানতে পড়তে পারেন ( ওয়ার্ডপ্রেস দিয়েই কেন ওয়েবসাইট তৈরি করবেন? ওয়ার্ডপ্রেস কেন এত জনপ্রিয়?) এই ব্লগ পোস্টটি।

হোস্টিংঃ

সাইটের স্পীডের প্রথম শর্তই হচ্ছে হোস্টিং। তাই হোস্টিং কেনার সময় দেখে শুনে একটু রিসার্স করে দেখে নিবেন যে কোন কোম্পানি ভাল মানের হোস্টিং দিয়ে থাকে। হোস্টিং নেওয়ার সময় CPU, RAM, সার্ভার NGINX নাকি Litespeed এসব দেখে নিবেন। কারন হোস্টিং এর উপর সাইট লোডিং স্পীডের ৫০% নির্ভর করে।

আপডেটেড কম্পোনেন্টঃ

ব্যাকডেটেড কম্পোনেন্ট যেমন সিকিউরিটির জন্য হুমকি স্বরুপ, সেই সাথে সাইটের স্পীড কমিয়ে দেওয়ার জন্যও দায়ী। তাই ওয়ার্ডপ্রেস, প্লাগিন, থিম সব কিছু সব সময় আপটুডেট রাখুন। সেই সাথে আপনার হোস্টিং এর PHP ভার্শনও আপটুডেট রাখা।

ইনএক্টিভ থিম-প্লাগিনঃ

সাইটের লোডিং স্পীড কমিয়ে দেওয়ার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে ইনএক্টিভ থিম-প্লাগিন। এটি একদিকে যেমন সাইটের স্পীড কমিয়ে দেয়, তেমনি অন্য দিকে আপনার ব্যাকআপ ফাইলের সাইজ বাড়ায়, যা পরবর্তীতে সাইটের রিস্টোরেও অনেক সময় নেয়। সাথে আপনার হোস্টিং ফাইল কোটাও বাড়াতে থাকে। তাই ব্যবহার হয় না এমন থিম প্লাগিন রিমুভ করে ফেলুন।

অব্যবহৃত মিডিয়া ফাইলঃ

আপনার মিডিয়া লাইব্রেরীতে ব্যবহার করেন না এমন ইমেজ, পিডিএফ থাকলে সেগুলা ডিলেট করে ফেলুন। আপনার হোস্টিং স্টোরেজ কমার সাথে সাইটের লোডিং টাইমও কমিয়ে দিবে।

Liteweight থিমঃ

থিমের কোডিং কোয়ালিটির উপর নির্ভর করে থিমকে Lightweight বলা হয়। তাই থিম সিলেক্টের সময় ভাল থিম সিলেকশন আপনার সাইটের লোডিং টাইম অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। লাইটওয়েট থিমের মধ্যে Hello Elementor, Neve, GeneratePress, Astra, OceanWP, StudioPress, Divi, Zakra, X-Theme অন্যতম।

হোম-পেজ সাইজঃ

হোম-পেজ সাইজ অনেক বড় হলে সাইট লোডে অনেক বেশি সময় নেয়। সে জন্য হোম পেজ যতটা সম্ভব ছোট সাইজের করায় ভাল।

অপটিমাইজড ইমেজঃওয়েব ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস

ইমেজ কোয়ালিটি ঠিক রাখতে অনেকেই অরিজিনাল বড় সাইজের ইমেজ ব্যবহার করে থাকে। সাইট লোডিং টাইম বাড়ার অন্যতম কারন হচ্ছে ইমেজ সাইজ। আপনার অপ্টিমাইজড ইমেজ সাইজ আর ফাইল সাইজ সাইটের লোডিং স্পীড অনেক বাড়িয়ে দিবে। ইমেজ ব্যবহারের আগে ফটোশপ দিয়ে রিসাইজ করে Save for Web ফরমেটে সেভ করে নিবেন। ইমেজ ওয়াইডথ সর্বোচ্চ ১৯২০ রাখা বেটার। আবার সেই ইমেজ অনলাইন অপটিমাইজার দিয়ে অপটিমাইজ করে নিলে ফাইল সাইজ অনেক কমে আসে, সাথে ইমেজ কোয়ালিটিও একি থাকে। সব থেকে ভাল ইমেজ অপ্টিমাইজার হচ্ছে TinyPNG, জাস্ট আপলোড আর ডাউনলোড করলেই হয়ে যাবে।

পোস্ট রিভিশনঃ

পোস্ট রিভিশনের ডাটা ডাটাবেজে অনেক জায়গা দখল করে থাকে, যার জন্য লোডিং টাইম অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই পোস্ট রিভিশন কম রাখা ভাল। আপনার পোস্ট রিভিশন অনেক হয়ে থাকলে ডেভেলপার হায়ার করে রিভিশন ডিলেট করে, রিভিশন লিমিট ৫ পর্যন্ত রাখতে পারেন।

ডাটাবেজ অপটিমাইজঃ

যেকোন সাইটের সব ধরনের কন্টেন্ট, ডাটা সব কিছুই থাকে ডাটাবেজে, তাই কোন কিছু যখন আমরা ভিউ করি তখন প্রোগ্রাম ডাটাবেজে গিয়ে সেই ডাটা খুজে এনে আমাদের শো করে। ডাটাবেজে ডাটার পরিমান যত বেশি হবে প্রোগ্রামের ডাটা খুজে পেতে তত টাইম লাগবে। ডাটাবেজে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় ডাটা থাকে। যেমন, কিছু প্লাগিন আন-ইন্সটল করার পরও প্লাগিনের ডাটা ডাটাবেজেই থেকে যায়, আবার সেশন ডাটার পরিমান সব সময় বাড়তে থাকে। যার কারনে ডাটাবেজ ভারী হয়ে যায়। তাই সব সময় ডাটাবেজ ক্লিন রাখা ভাল। আর আপনি যদি ডাটাবেজের কাজে অভিজ্ঞ না হয়ে থাকেন তাহলে ভুলেও এই কাজ করতে যাবেন না। ডেভেলপার হায়ার করে করিয়ে নিতে পারেন। ব্যাকআপ তো অবশ্যই রাখবেন।

ভিডিও-অডিও ব্যবহারঃ

সাইটে অনেক সময় ভিডিও বা অডিও ব্যবহারের দরকার পড়ে। প্রায় সবাই যে ভুলটা করে থাকে সেটা হল ভিডিও-অডিও মিডিয়া লাইব্রেরীতে রেখে সরাসরি ব্যবহার করে থাকে। এই ভুলটা করা যাবে না। ভিডিও-অডিও অন্য কোথাও আপলোড করে ইম্বেডেড কোড ব্যবহার করতে হবে। ভিডিও-অডিও নিজস্ব সার্ভারে রেখে ব্যবহার করলে হোস্টিং সাইজ যেমন বেশি লাগে, Bandwidth ও অনেক বেশি দরকার হয়। আর প্রতিবার লোডে অনেক সময় লাগে। ভিডিও আপলোডের জন্য YouTube, Vimeo, DailyMotion আর অডিও এর জন্য SoundCloud অন্যতম। এদের সার্ভার অনেক মান-সম্মত হওয়ায় লোডিং টাইম খুব সামান্য হয়।

ক্যাশ-প্লাগিনঃ

আপনি কোন সাইট প্রথম বার ভিজিট করলে সেই সাইটের স্ট্যাটিক ডাটা আপনার ব্রাউজারে সেভ হয়ে যায়, যাতে পরবর্তী বার আপনি ভিজিট করলে সেই ডাটাগুলো নতুন করে সার্ভার থেকে লোড করাতে না হয়। এটাকেই ক্যাশিং বলে। এটার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসে ক্যাশিং প্লাগিন ব্যবহার করা হয়। আপনি অভিজ্ঞ না হলে ডেভেলপার দিয়ে সেটাপ করে নিতে পারেন।

CDN ব্যবহারঃWordPress Speed Optimization

Content Delivery Network (CDN) সার্ভার ব্যবহারে সাইট স্পীড অনেক কম হয়। আপনি যদি CDN ব্যবহার করেন তাহলে CDN আপনার সাইটের সব ফাইলের কপি তাদের বিভিন্ন লোকেশনের সার্ভারে রাখে। আর যখন কোন ইউজার আপনার সাইট ভিজিট করে, তখন ইউজারের লোকেশনের সব থেকে কম দূরত্ত্বে যে সার্ভার থাকে সেই সার্ভার থেকে ডাটা লোড হয়। আর এতে সময় লাগে অনেক কম। সব থেকে বহুল ব্যবহৃত CDN হচ্ছে Cloudflare, এর ফ্রী এবং প্রিমিয়াম দুই প্যাকেজই আছে। অনেক হোস্টিং কোম্পানী ফ্রী CDN দিয়ে থাকে।

এই বিষয় গুলো মেনে সাইট ম্যানেজ করলে অনেক সহজেই আপনার সাইটের স্পীড স্থির রাখতে পারবেন। এগুলা হচ্ছে সব নন-ডেভেলপার এর কাজ, এর বাইরেও আরো অনেক কাজ আছে ডেভেলপমেন্টে। যেমনঃ CDN সেটাপ, JS-CSS মিনিফাই, লিভারেজ ব্রাউজার ক্যাশ এর মত আরো অনেক কাজ। এগুলার জন্য দরকার দক্ষ ডেভেলপার। এর জন্য আপনার পাশে আছে দেশসেরা টেক-পার্টনার YappoBD. আপনার সাইট ডিজাইন থেকে শুরু করে মেইন্টেনেন্স সব কিছু পাবেন প্যাকেজ আকারে।

Facebook Comment