You are currently viewing সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওয়েবসাইট ভিজিটর বাড়ানোর কিছু টিপস

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওয়েবসাইট ভিজিটর বাড়ানোর কিছু টিপস

প্রশ্নটা যখন এমন, ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়াবো কিভাবে? তখন কিন্তু আবার এই প্রশ্নের সাথে সাথে আরো কয়েকটি প্রশ্ন দাঁড়ায়। তা হলোঃ আপনি কি গুগল থেকে অর্গানিক ভিজিটর এর কথা বলছেন? নাকি কোন এ্যাডস এর মাধ্যমে পেইড ভিজিটর এক কথা বলছেন? অথবা এমনটাও হতে পারে আপনি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া গুলো থেকে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার কথা চিন্তা করছেন। গুগল অর্গানিক ভিজিটর এর চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওয়েবসাইট ভিজিটর বাড়ানো তুলনামূলক অনেকটাই সহজ। কিন্তু কয়জনে তা ভালোভাবে জেনারেট করতে পারি? এক্ষেত্রে যদি সোশ্যাল শেয়ারের মাধ্যমে দ্রুত ভিজিটর বৃদ্ধি পায় তবে মন্দ কি? আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ সবাইকে, বাকিটুকু পড়তে সাথেই থাকুন।

 

প্রোফাইল সঠিকভাবে অপটিমাইজড করুন

কোনো ভিজিটর যখন আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে আরও বুঝতে চায়, তখন তারা আপনার প্রোফাইল বা বায়ো সেকশনে গিয়ে আপনাকে এবং আপনার কাজ সম্পর্কে ছোটখাটো রিসার্চ করে নেয়। সুতরাং আপনার ব্র্যান্ডের মূল্যের প্রস্তাবনাকে দ্রুত অনেক ভিজিটরের কাছে পৌঁছে দিতে একটি প্রোফাইল এবং তার বায়ো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে বলে আমি মনে করি৷

তবে এক্ষেত্রে মনে রাখবেন প্রোফাইলে যেনো আপনার ব্র্যান্ড বা ওয়েবসাইট সম্পর্কে কোনো ভুল তথ্য দেওয়া না থাকে। এটি ভিজিটরকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে যথেষ্ট। তবে নিজের ব্র্যান্ডকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে মাত্র কয়েকটা লাইনই যথেষ্ট। আপনার হোম বা ল্যান্ডিং পেইজের সাথে বায়ো এবং এবাউট সেকশনকে ভিজিটরের কল টু অ্যাকশনের হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

শেয়ার অপশন এক্টিভ রাখুন

ধরা যাক একজন ব্যক্তি আপনার ব্লগ সাইটের কোনো একটি পোস্ট পড়তে এসেছিলেন এবং তার সেটি খুবই ভালো লেগেছে। ইনস্ট্যান্টল সে আপনার পোস্টটি বা আর্টিকেলটি শেয়ার করার চেষ্টা করলে শেয়ার অপশনের কাজ না করার কারণে বা শেয়ার অপশন ওয়েবসাইটের সঠিক স্থানে বসানোর না কারণে সে আপনার পোস্টটি শেয়ার করতে পারছে। ফলে আপনি হারাচ্ছেন অর্গানিক ভিজিটর প্রাপ্তির সুযোগ!

সুতরাং এমনটি কখনোই করা যাবে না। সঠিকভাবে ওয়েবসাইটের সোশ্যাল শেয়ার অপশনটি বসান। যাতে করে কোনো আগ্রহী ভিজিটর তার পঠিত পছন্দের আর্টিকেলটি শেয়ার করে আপনার ভিজিটর তৈরিতে সহজেই যেকোনো স্টেপ নিতে পারে।

জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করুন

আপনি যদি আপনার ওয়েব ট্র্যাফিক এবং সোশ্যাল মিডিয়া ফোকাস দুটোই একসাথে চান তবে আমি বলবো এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলির মাঝে বেশ জনপ্রিয় কিছু মাধ্যম সম্পর্কে এবং তা থেকে কিভাবে নিজের ওয়েবসাইটে ট্রাফিক জেনারেট করতে পারেন তা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলোঃ-

পিন্টারেস্ট (Pinterest)

৪৭৮ মিলিয়ন মাসিক ব্যবহারকারীর এই যোগাযোগ মাধ্যমটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে ব্লগ এসইও এর জন্য সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর ভূমিকার পেছনে সবচেয়ে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে এই পিন্টারেস্ট। পাশাপাশি এটি সাইটগুলোর সোশ্যাল সিগন্যাল বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। পাশাপাশি একজন ব্যবহারী হিসেবে পিন্টারেস্ট প্রোফাইলের মাধ্যমে ডুফলো ব্যাকলিংকও পেয়ে যাবেন আপনি! কত্ত সুযোগ তাই না?

পিন্টারেস্টের মতো এতো বড়মানের অথরিটি সাইট থেকে ডুফলো ব্যাকলিংক পাওয়া যে চাট্টিখানি কথা নয় সেটি তো আপনি নিশ্চয় জানেন! পাশাপাশি এই ব্যাকলিংক কিন্তু আপনার ট্রাফিকের অন্যতম এবং লিগ্যাল সোর্স। যদিও সাইটকে পিন্টারেস্টে ভেরিফাই করে তবেই আপনি এই ব্যাকলিংক পেতে পারেন। আমার বিশ্বাস ডুফলো ব্যাকলিংক ১০০টি নোফলো ব্যাকলিংক থেকে বেশি পাওয়ারফুল বিধায় এই সুযোগ কেউই মিস করতে চাইবেন না…!

রেডিট (Reddit)

এটি একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া হওয়ায় খুব সহজে বেশি পরিমাণ ট্রাফিক ওয়েবসাইটে জেনারেট করা খুব একটা কঠিন কাজ হবে বলে আমি মনে করি না। এক্ষেত্রে নিজের ওয়েবসাইটের নিশ অনুযায়ী সাব রেডিট এ রিসোর্স দিয়ে পার্টিসিপেট করতে পারলেই কাজ শেষ। এক্ষেত্রে আপনাকে ভিজিটর নিয়ে ভাবতে হবে না।

তবে রেডিটে যাদের কারমা প্রায় ২০০+ তারাই ওয়েবসাইট লিংক প্রোমোট করতে পারবেন এবং সাইটে ট্রাফিক জেনারেট করতে পারবেন। প্রায় ৫২ মিলিয়ন দৈনিক সক্রিয় ইউজার রয়েছে এই রেডিট সাইটটিতে। এক্ষেত্রে আমার বিশেষ টিপস হলো সরাসরি প্রচার এবং বা মার্কেটিংয়ের জন্য রেডিটকে ব্যবহার না করে কৌশলে ভিজিটর জেনারেট করার চেষ্টা করবেন। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কনটেন্ট পাবলিশ করে তাতে লিংক ইনসার্টও করা যেতে পারে।

ফেইসবুক (Facebook)

বর্তমানে আমরা প্রায় সবাই ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় দিতে পচ্ছন্দ করি। তাই আপনি যদি সাইটের নিশভিত্তিক কোনো গ্রুপ তৈরি করে তাতে মার্কেটিং করেন, তাহলে সেখানে একই মানসিকতার ভিজিটরদের পেয়ে যাবেন। যারা আপনার সাইটের যেকোনো পোষ্টকেই স্বাদরে গ্রহন করবে এবং সেই আর্টিকেল বা কন্টেন্ট তাদের জন্য উপযোগী হয়ে উঠবে।

তবে সেই পেইজ বা গ্রুপে শুধু মাত্র প্রোমোশনাল পোষ্ট দিলেই চলবে না। আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আপনাকে ভিজিটর বা অন্যান্য মেম্বারদের মতের প্রাধান্য আপনাকেই দিতে হবে এবং তারা যেনো আপনার মার্কেটিংয়ে বোর না হয় সেদিকে কিন্তু আপনাকেই নজর রাখতে হবে।

প্রফেশনাল ফেসবুক অ্যাডভার্টাইজিং সার্ভিস পেতে যোগাযোগ করুনঃ

টুইটার (Twitter)

আপনি যদি টুইটারে স্মার্ট এবং কার্যকরভাবে কাজ করেন তবে আপনি কিন্তু টুইটার থেকেও ওয়েবসাইটের ট্রাফিক জেনারেট করতে পারেন। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো বেশিরভাগ ব্লগারদের কোনও ধারণা নেই এই টুইটারকে ব্যবহার করার উপায় সম্পর্কে! আশি করি আজ থেকে আপনার ওয়েবসাইটের কোনো লিঙ্ক পোস্ট করার কথা ভাবলেই টুইটারকেই প্রাধান্য দিবেন। কেননা আপনি এটিকে ব্যবহার করে নিশ রিলেটেড কোয়েরি করা বিভিন্ন ভিজিটর পেতে পারেন।

টুইটার যারা ব্যবহার করে তারা বেশিরভাগই টুইটারকে প্রফেশনাল কাজে ব্যবহার করতে পছন্দ করে। আপনিও এই সুযোগ নিতে পারেন। এতে করে রিয়েল ভিজিটর পেতে আপনাকে কোনো বেগ পেতে হবে না। এক্ষেত্রে সঠিকভাবে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা গেলে তো প্লাস পয়েন্ট! বিভিন্ন ট্রেন্ডিংয়ের কিওয়ার্ড বা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। তবে ইলিগ্যাল কোনো কিছু শেয়ার করা থেকে বিরত থাকবেন।

ইনস্টাগ্রাম (instagram)

আপনি চাইলে বিভিন্ন মেথডে ইন্সটাগ্রাম থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারেন৷ যদি আপনার প্রোফাইলে খুব বেশি ফলোয়ার, আইজি টিভি ভিউ থাকে তবে ইনস্টাগ্রামই আপনাকে কয়েক বিলিয়ন ভিজিটর এনে দিতে পারে। এক্ষেত্রে চাইলে ফলোয়ারকে ইনবক্সে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করতে পারেন। তবে এ কাজটি খুব বেশ করা যাবে না।

যদি আপনার ১০০০০ ফলোয়ার বা ভেরিফাই ইন্সটাগ্রাম আইডি হয় তাহলে আপনি ইন্সটাগ্রামে স্টোরিতে লিংক শেয়ার করলে তাতে সাধারণ ইউজার প্রবেশ করতে পারবে। আপনি এই সুযোগটিকেও কাজে লাগাতে পারেন। একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন আপনার ইন্সটাগ্রাম টিভিতে ভিডিও আপলোড করার অপশন রয়েছে। সেখানে ভিডিও আপলোড করে সেইখানে আপনার ওয়েবসাইটে লিংক শেয়ার করে দিন৷ খুব মানসম্মতভাবে প্রফেশনাল অপ্টিমাইজ করে যদি আপনি ভিডিও আপলোড করতে পারেন, তবে সেখানেই লিংক শেয়ার করলেই ইজিলি অনেক ট্রাফিক পেয়ে যাবেন।

কোরা (Quora)

কোরা হলো প্রশ্ন-উত্তর সাইট। যেখানে একদল প্রশ্ন করে এবং আরেক দল তার উত্তর দিয়ে থাকে। আপনি চাইলে এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে তাতে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক ইনসার্ট করে দিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই নিশভিত্তিক প্রশ্নগুলি বাছাই করে সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক লিংক শেয়ার করলে গ্রাহক বিরক্তিবোধও করতে পারে। সুতরাং এই কাজটি কখনোই করতে যাবেন না। সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে কোরা থেকেই আপনি অসংখ্য ভিজিটর জেনারেট করতে পারবেন।

লিংকড-ইন (Linkedin)

পেশাজীবীদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এই লিংকড-ইনকে ব্যবহার করেই আপনি ভালো পরিমাণে ওয়েবসাইট ভিজিটর জেনারেট করতে পারবেন। বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকা মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো জন্যে যেহেতু এই সাইট ব্যবহৃত হয় সেহেতু আপনি বিভিন্ন স্কিল রিলেটেড কন্টেন্ট এবং তার সাথে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করতে পারেন। এতে করে গ্রাহকের মনে আপনার ওয়েবসাইট নিয়ে পজেটিভ ধারণা তৈরি হবে এবং তারা নিয়মিত আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করে সাইটে এক্টিভ থাকতে বাধ্য হবে।

ইতি কথা

এছাড়াও ওয়েবসাইট ট্রাফিকের জন্য আপনি অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনি উল্লেখ করলাম না। এসব সাইটে আপনার ওয়েবসাইটকে প্রচারের মাধ্যমে আপনি আরো বেশি পরিমাণে টার্গেটেড ট্রাফিক কোনো ঝামেলা ছাড়াই পেতে পারেন সহজেই। মনে রাখবেন, আপনি যদি উপরের উল্লেখিত এসব সাইট গুলোতে মার্কেটিং করে সঠিক গ্রাহকের কাছে নিজের ওয়েবসাইটকে পৌঁছাতে পারেন বা তাদেরকে জানিয়ে দিতে পারেন যে আপনি সিলেক্টেড কোনো একটি নিশ নিয়ে কাজ করছেন, তবে আপনার ভিজিটর নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। ভিজিটর অটো আসা শুরু করবে৷

Facebook Comment