You are currently viewing ই-কমার্স কি? ই-কমার্স ব্যবসায় নারী উদ্দ্যোক্তাদের সম্ভাবনা 

ই-কমার্স কি? ই-কমার্স ব্যবসায় নারী উদ্দ্যোক্তাদের সম্ভাবনা 

সবাই ই-কমার্স এর মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্দ্যোক্তা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে অনলাইন বিজনেসগুলো গড়ে উঠেছে তার প্রায় সবই ই-কমার্স ব্যবসায় নারী উদ্দ্যোক্তাদের হাত ধরে। প্রতিটা মেয়েই চায় নিজে স্বাবলম্বী হতে। ছেলেদের মতো তারাও চায় তাদের আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নগুলো কে বাস্তবে রূপ দিতে। কিন্তু ১৮ বছর পেরুলেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাক্সিমাম মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। তখন তাদের স্বপ্নগুলো যেনো আকাশ কুসুম কল্পনায় পরিনত হয়। তখন সংসার সামলিয়ে জব করা যেনো গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। আবার কেউ কেউ তো বিয়ের পর নারীদের চাকরি করতে দিতেও নারাজ। মুলত, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন নারীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন অনেকটাই টাফ। কিন্তু এই কথাগুলো এখনকার নারীরা শুনলে হাসবে কারণ এই কথাগুলো ঊনবিংশ শতাব্দীতে বললে মানাতো। এখন যেসব নারীদের রয়েছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি তারা চাইলেই সেই ইচ্ছাশক্তি দ্বারা অসম্ভব কে সম্ভব করতে পারে। কারণ এখন নেট দুনিয়ায় সব সম্ভব। বাংলাদেশে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় এবং ২০০৪ সাল থেকে ফেসবুকের যাত্রা শুরু হওয়ায় বাংলাদেশের অনলাইন বিজনেসগুলো যেন হয়ে উঠেছে অনেক রমরমা। এখন মেয়েরা আর কেউ বসে নেই। সবাই ই-কমার্স এর মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্দ্যোক্তা হচ্ছে। সার্ভে করলে দেখা যাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে অনলাইন বিজনেসগুলো গড়ে উঠেছে তার প্রায় সবই নারী উদ্দ্যোক্তাদের হাত ধরে। আজ আমরা জানব ই-কমার্স কি এবং কোন কোন সেক্টরে নারী উদ্দ্যোক্তাদের ব্যবসার সম্ভাবনা অনেক। 

ই-কমার্স কিঃ 

ই-কমার্স এর ফুল ফর্ম হচ্ছে ইলেকট্রনিক কমার্স। এই কথা টা ছোট থেকে বড় আমরা সকলেই জানি। কিন্তু আজ আমি ই-কমার্স এর সংক্ষিপ্ত কিন্তু বেসিক বিষয়বস্তু আলোচনার মাধ্যমে আপনার ই-কমার্স সম্পর্কে ধারণা টা কে আরও পাকাপোক্ত করতে যাচ্ছি। 

ই-কমার্স হলো এমন একটি বিজনেস প্ল্যাটফর্ম যেখানে আপনি ইলেকট্রনিক সিস্টেম ব্যবহার করে আপনার পণ্য বা সেবা কাস্টমার এর কাঁছে বিক্রয় করতে পারবেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ইলেকট্রনিক সিস্টেম বলতে আপনার ব্যবহৃত মোবাইল নেটওয়ার্ক অথবা অন্য কোন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কে বোঝানো হয়েছে। ই-কমার্স বললেই আমরা অনলাইনে কেনাকাটা কে বুঝি কিন্তু এর কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে। যেমনঃ- 

বিজনেস টু বিজনেস ( B2B ): 

সাধারণত বড় বড় দুই বা ততোধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই ধরনের ব্যবসা পরিচালিত হয়ে থাকে। আমাদের দেশের ৮০% ই-কমার্স এই সিস্টেম এর অন্তর্ভুক্ত। 

বিজনেস টু কনজিউমার ( B2C): 

ই-কমার্স বললেই আমাদের মাথায় যেটা আসে সেটাই হলো বিজনেস টু কনজিউমার। এখানে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বা সেরা সরবরাহ করে থাকে। 

কনজিউমার টু কনজিউমার (C2C): 

এখানে কোনো গ্রাহক বা ভোক্তা একটি পণ্য B2C ওয়েতে পাইকারি মূল্যে ক্রয় করার পর তা অন্য গ্রাহকের নিকট খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে থাকে। 

ই-কমার্স ব্যবসায় নারী

ই-কমার্স ব্যবসায় নারী উদ্দ্যোক্তাদের সম্ভাবনাঃ 

নেট দুনিয়ায় নারী উদ্দ্যোক্তাদের কাস্টমারদের কাঁছে অ্যাপ্রোচ করা এখন হয়ে গেছে আরও সহজ। নারী উদ্দ্যোক্তারা নিয়মিত ফেসবুক লাইভ এর মাধ্যমে অথবা ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে তার বিজনেস টা কে আরও সবার কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছে। নারী উদ্দ্যোক্তাদের কে আরও উৎসাহিত করার জন্য এখন জেলায় জেলায় নারীদের নিয়ে ই-কমার্স বিজনেস এর উপর ট্রেনিং করানো হচ্ছে। বাংলাদেশ এ ই-কমার্স বিজনেস এর উপর একটি দিবস ও ২০১৫ সালের পর থেকে প্রতি বছর পালন করা হচ্ছে৷ আপনি জেনে খুশি হবেন যে, ৭-ই এপ্রিল কে সরকার ই-কমার্স দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। যেসব নারী ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাচ্চা, সংসার সামলিয়ে জব করতে পারছে না তারা ঘরে বসেই কাজ করার তাগিদে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম কে বেঁছে নিয়েছে। এখানে তারা তাদের বিভিন্ন কাজ কে ফুঁটিয়ে তুলতে পারে। যে নারী সেলাইয়ের কাজ নিঁপূনভাবে করতে পারে সে বুটিক শপ খুলতে পারে, যে কেক বানাতে পারে সে জন্মদিনে কেক সাপ্লাই দিতে পারে। এরকম হাজারো ক্যাটাগরিতে নারী উদ্দ্যোক্তারা তাদের কাজের পারদর্শীতা দেখাচ্ছে। নিচে কিছু ক্যাটাগরি তুলে ধরা হলো যেটা কে কেন্দ্র করে নারীরা কাজ করতে পারবে। 

শখের রান্নাটা যখন ব্যবসাঃ 

এমন কোনো মেয়ে নেই যার রান্না করা পছন্দ না।  আর আপনার রান্না টা যদি হয় অসম্ভব সুস্বাদু তাহলে ই-কমার্স বিজনেস হিসেবে আপনার রান্না কে-ই বেঁছে  নেওয়া উচিত। আমাদের জেলায় এমন অনেক নারী উদ্দ্যোক্তা রয়েছে যারা  ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুলে তাদের হোম মেড খাবার সবাইকে সাপ্লাই দিচ্ছে। তাদের গ্রাহকদের সংখ্যা কিন্তু কম নয়। যারা ব্যাচেলর, হোস্টেলে থাকে তারা চায় টাকার বিনিময়ে হলেও একটু বাড়ির খাবারের স্বাদ পেতে। আবার ছোট খাটো পার্টিতে ও অনেকে বাইরে থেকে খাবার অর্ডার দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে লোকাল কাস্টমাররা বেশি প্রাধান্য পায়। আবার বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত, অনেকেই আছে শখ করে কেক বানায়। তাতে আবার নিজের মনের মতো করে ডেকোরেশন করে। বর্তমানে কাস্টমাইজড কেক সবাই পছন্দ করে এবং এর চাহিদা ও দিন দিন বাড়ছে। তাই আপনার শখ যদি কেক বানানো হয় তাহলে আপনার এটা নিয়েই আগানো উচিত। 

হাতে করা পেইন্টিংঃ 

বর্তমানে কাপল শাড়ী-পাঞ্জাবী অনেক বেশি সেল হয়। আর আপনি যদি পেইন্টিং করতে পছন্দ করেন তাহলে যে কোনো সিম্পল শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবি কে আপনি আপনার রঙ তুলির সাহায্যে অনেক আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন। বর্তমানে পেইন্টিং শাড়ি, পাঞ্জাবির গলায় রঙ, তুলি দিয়ে ফুলের সাঁজ অনেক পাবলিসিটি পেয়েছে। 

বুটিক শপঃ 

আমার চারপাশে অনেক পরিচিত মেয়ে আছে যারা খুব সুন্দর হাতের কাজ পারে। তারা তাদের এই গুন কে পুঁজি করে একটি অনলাইন বুটিক শপ খুলেছে। যার নাম দিয়েছে শখের বুটিক শপ। হাতের কাজের পোশাক অনেক আগের জেনারেশন থেকে এখন পর্যন্ত ও স্থান দখল করে রেখেছে। তাই আপনার নিজ হাতে করা শাড়ি, বেড শিট, থ্রি পিচ, কুশন সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করুন। 

হাতে বানানো গহনাঃ 

বাংলাদেশের এমন কোনো মেয়ে নেই যে গহনা পড়তে পছন্দ করে না। মেয়েরা সব সময়-ই শৌখিন, তারা সব সময় চায় নিজেকে সাঁজিয়ে রাখতে। তাই তারা সব সময় চোখ রাখে সোশ্যাল মিডিয়ায় কখন লেটেস্ট মডেল এর গহনা বের হবে। তারা দামে কখনো কার্পণ্য করে না বরং সবার থেকে সাঁজগোঁজে এগিয়ে থাকতে বেস্ট প্রোডাক্ট টি ক্রয় করে। তাই আপনি যদি সুন্দর করে মাটির অথবা ফুলের গহনা বানাতে পারেন, এটা কে ই-কমার্স এর মাধ্যমে খুব ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। পহেলা বৈশাখে বাঙালিরা ওয়েস্টার্ন ড্রেস নয় বরং শাড়িকেই বেশি প্রেফার করে। আর এ দিনে তরুণীরা মাটির তৈরি গহনা বেশি পড়ে। আবার গায়ে হলুদে ফুলের তৈরি গহনা না হলে কোথাও যেন একটা অপূর্ণতা থেকে যায়। তাই আপনি লেটেস্ট মডেলের গহনা তৈরির মাধ্যমে হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল নারী উদ্দ্যোক্তা। 

উপরে আমার উল্লেখিত যে কোন আইডিয়া আপনি বেঁছে নিতে পারেন। বর্তমানে এগুলোর মার্কেট অনেক হাই। 

পরিশেষেঃ 

আপনার সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারেন আপনি ই-কমার্স বিজনেস এর মাধ্যমে। যেকোনো একটি সেক্টর কে তো আপনি বেঁছে নিলেন ঠিকই কিন্তু ই-কমার্স বিজনেস করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে টা দরকার তা হলো ই-কমার্স ওয়েবসাইট। আপনার নতুন বিজনেস শুরু করার এবং সবার কাছে আপনার প্রোডাক্ট  পৌঁছে দেওয়ার একমাত্র সঠিক মাধ্যম হলো ই-কমার্স ওয়েবসাইট। আপনি যদি ব্যবসায় অগ্রগতি আনতে চান তাহলে আজই একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলুন অথবা কিনে ফেলুন রেডি ই-কমার্স ওয়েবসাইট । আপনার পছন্দসই ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানিয়ে নেওয়ার জন্য আজই যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে। আমরা সুলভ মূল্যে আপনাকে প্রিমিয়াম ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারি। এছাড়াও  আমাদের রয়েছে দক্ষ টিম, যারা আপনার ওয়েবসাইটের মেইন্টেনেন্স এর কাজ করবে। তাই দেরি না করে আজই যোগাযোগ করুন। 

Facebook Comment